ইয়োহানেস কেপলারের জীবনীকে নির্বাচিত নিবন্ধ করার প্রয়াস

কেপলার নভোমানমন্দির গ্রহ আবিষ্কার করে একাকার করে ফেলছে। বাংলায় কেপলারের পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচনার এরচেয়ে ভাল সময় আর নেই। তাই বাংলা উইকিপিডিয়াতে শুরু করে দিলাম। ইংরেজি উইকিতে এই নিবন্ধ ফিচার্ড। সুতরাং সেটা হুবহু অনুবাদ করতে পারলেই বাংলায় সেটাকে ফিচার্ড করা যাবে। সুতরাং চিন্তা নেই। অন্য যে কেউ অনুবাদে হাত লাগাতে চাইলে সুস্বাগতম। ভূমিকাটি এখানে যোগ করছি:

চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগে কেপলার ও ব্রাহের মূর্তি

ইয়োহানেস কেপলার (জার্মান ভাষায়: Johannes Kepler) (২৭শে ডিসেম্বর, ১৫৭১ – ১৫ই নভেম্বর, ১৬৩০) একজন জার্মান গণিতবিদ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জ্যোতিষী। তিনি ১৭শ শতকের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব। কেপলারের বিধিসমূহের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। পরবর্তীকালের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা তাঁর লেখা Astronomia nova, Harmonices Mundi এবং Epitome of Copernican Astronomy বইগুলির উপর ভিত্তি করেই এই বিধিগুলো প্রণয়ন করেছিলেন। কেপলারের আগে গ্রহগুলির গতিপথ জ্যোতিষ্কসমূহের খ-গোলক অনুসরণ করে নির্ণয় করা হত। কেপলারের পরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার কক্ষপথ অনুসরণ করে। কেপলারের বিধিগুলি আইজ্যাক নিউটনের বিশ্বজনীন মহাকর্ষ তত্ত্বের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছিল।

কর্মজীবনে কেপলার ছিলেন অস্ট্রিয়ার গ্রাৎস শহরে অবস্থিত একটি সেমিনারি স্কুলে গণিতের শিক্ষক যেখানে তিনি প্রিন্স হান্স উলরিখ ফন এগেনবের্গের একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীতে পরিণত হন। এরপরে বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ট্যুকো ব্রাহের সহকারী হন এবং একসময় সম্রাট রুডলফ ২ এবং তার দুই উত্তরসূরী মাটিয়াস ও ফের্ডিনান্ড ২ এর রাজগণিতবিদ হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া অস্ট্রিয়ার লিনৎস শহরে গণিত পড়িয়েছেন এবং জেনারেল ভালেনস্টাইনের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি আলোকবিদ্যার মৌলিক নীতি নিয়ে কাজ করেছেন, প্রতিসরণ দুরবিনের একটি উন্নততর সংস্করণ নির্মাণ করেন যার নাম বর্তমানে কেপলারীয় দুরবিন এবং তার সমসাময়িক গালিলেও গালিলেইয়ের দুরবিন বিষয়ক কাজ সম্পর্কে মন্তব্য করেন।

কেপলার যখন জীবিত ছিলেন তখন জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না, কিন্তু জ্যোতির্বিজ্ঞানের সাথে সুস্পষ্ট পার্থক্য ছিল পদার্থবিজ্ঞানের। সেসময় পদার্থবিজ্ঞান ছিল প্রাকৃতিক দর্শনের একটি শাখা আর জ্যোতির্বিদ্যা ছিল লিবারেল আর্টসের শাখা গণিতের একটি উপশাখা। কেপলারও তার আবিষ্কারগুলোকে ধর্মীয় যুক্তির মাধ্যমে সিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন, তিনি মনে করতেন ঈশ্বর একটি মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন এবং প্রাকৃতিক কার্যকারণ অনুসন্ধানের মাধ্যমেই কেবল সেই পরিকল্পনার কিছুটা বোঝা সম্ভব। এজন্য বোধহয় কেপলারের গবেষণাকর্মকে জ্যোতির্বিজ্ঞান না বলে জ্যোতির্বিদ্যা বলাই বেশি যুক্তিসঙ্গত হবে। তিনি তার নতুন জ্যোতির্বিদ্যার নাম দিয়েছিলেন “খ-পদার্থবিদ্যা” (celestial physics) যা এরিস্টটলের অধিবিদ্যার জগতে একটি বিশেষ অভিযাত্রা এবং এরিস্টটলের “অন দ্য হ্যাভেনস” গ্রন্থের উত্তরখণ্ড। মোটকথা, জ্যোতির্বিদ্যাকে সর্বজনীন গাণিতিক পদার্থবিদ্যার একটি শাখা হিসেবে বিবেচনা করে তিনি ভৌত বিশ্বতত্ত্বের সুপ্রাচীন প্রথাকে একটি নতুন আঙ্গিক দিয়েছিলেন।

বাংলা উইকিপিডিয়ায় ইয়োহানেস কেপলার

About Khan Muhammad

A man's heart has heard two ways through life- the way of nature and the way of grace. You have to choose which one you'll follow. Grace doesn't try to please itself. It accepts being slighted, forgotten, disliked. It accepts insults and injuries. Nature only wants to please itself, get others to please it too. It likes to lord it over them; to have its own way. It finds reasons to be unhappy when all the world is shining around it and love is smiling through all things. They taught us, that no one who loves the way of grace, ever comes to a bad end.
This entry was posted in জীবনী. Bookmark the permalink.

One Response to ইয়োহানেস কেপলারের জীবনীকে নির্বাচিত নিবন্ধ করার প্রয়াস

  1. ভালো লাগলো আপনার এই পোষ্টটি পড়ে।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s