আলোর চেয়ে দ্রুতগামী নিউট্রিনোর কারণ কি অজড় প্রসঙ্গ কাঠামো?

কিছুদিন আগে সার্নে উৎপাদিত নিউট্রিনো ইতালির গ্রান সাসো পাতাল মানমন্দিরে রাখা অপেরা নিরূপকের মাধ্যমে সনাক্ত করে দেখা গেছে নিউট্রিনোগুলোর গড় বেগ আলোর চেয়েও বেশি। ওরা গড়ে আলোর তুলনায় ৬০ ন্যানোসেকেন্ড আগে অপেরা নিরূপকে এসে পৌঁছাচ্ছিল। পরীক্ষাটি সত্যি হলে পদার্থবিজ্ঞানের ভিত নড়ে উঠবে, পাল্টে ফেলতে হবে বেশ কিছু বিষয়। বিকল্প অনেক ব্যাখ্যা থাকলেও বিজ্ঞানীরা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সীমাবদ্ধতা প্রমাণের মত কোন অবস্থা এখনও তৈরি হয়নি ভাবছেন। একইসাথে অন্য অনেকে এই অতিবেগের কারণ ব্যাখ্যার চেষ্টা করছেন। যেমন সম্প্রতি অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের একটি গবেষণাপত্রে বলা হল, পৃথিবী যেহেতু কোন জড় প্রসঙ্গ কাঠামো নয়, সেহেতু পৃথিবীতে বসে যে পরীক্ষাই করা হোক না কেন তা অজড় কাঠামো দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

সৌরজগতের ভরকেন্দ্রে অবস্থিত কোন পর্যবেক্ষক যদি সময় পরিমাপ করে তাহলে তা অজড় কাঠামোর প্রভাবমুক্ত হবে। প্রকৃত সময়ের সংজ্ঞাই হচ্ছে আলোর গতিপথের সাথে সাথে পর্যবেক্ষককে ভ্রমণ করতে হবে। এবার তাই বিজ্ঞানীরা পরিমাপ করার চেষ্টা করেছেন সৌরজগতের ভরকেন্দ্রে অবস্থিত কোন পর্যবেক্ষক নিউট্রিনোগুলোর গতি কত পরিমাপ করতো। পৃথিবীর অজড় কাঠামোতে অবস্থিত ঘড়িগুলোকে কি পরিমাণ সংশোধন করতে হবে তাও জানা গেছে সেভাবে।

গ্রান সাসো এবং সার্নে অবস্থিত ঘড়িগুলো সৌরজগতের সার্বিক মহাকর্ষীয় বিভবের সাপেক্ষে কোথায় অবস্থান করছে তা জানা গেলে সর্বনিম্ন বিভব তথা ভরকেন্দ্রে থাকা ঘড়িতে পাওয়া সময়ের সাথে পৃথিবীর ঘড়ির সময়ের পার্থক্য কতো তা জানা সম্ভব। আইনস্টাইনের বিশেষ ও সাধারণ আপেক্ষিকতার মাধ্যমে এই পার্থক্য মাপা হয়েছে। বিস্ময়কর হলেও সত্যি পার্থক্য পাওয়া গেছে আনুমানিক ৫০ ন্যানোসেকেন্ড। অর্থাৎ পৃথিবীতে থাকা কোন ঘড়ি নিউট্রিনোর টাইম অফ ফ্লাইট ৫০ ন্যানোসেকেন্ড কম পরিমাপ করবে। সার্ন থেকে যাত্রা শুরু করে গ্রান সাসোর অপেরায় পৌঁছানোর সময়টুকুই টাইম অফ ফ্লাইট। এ কারণে মনে হবে নিউট্রিনো ৫০ ন্যানোসেকেন্ড আগেই চলে এসেছে। ৬০ এবং ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি না, আর এই পার্থক্যের কারণ পরিসাংখ্যিক ব্যত্যয়।

এই গবেষণাপত্রের ফলাফল যদি অপেরা পরীক্ষার ক্ষেত্রে সত্যিই প্রযোজ্য হয় তাহলে বলতে হবে, আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্বকে ভুল প্রমাণ নয়, বরং দুর্বল মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রের সাপেক্ষে তত্ত্বটিকে আরও শক্তভাবে প্রমাণ করেছে এই নিউট্রিনো পরীক্ষাটি।

About Khan Muhammad

A man's heart has heard two ways through life- the way of nature and the way of grace. You have to choose which one you'll follow. Grace doesn't try to please itself. It accepts being slighted, forgotten, disliked. It accepts insults and injuries. Nature only wants to please itself, get others to please it too. It likes to lord it over them; to have its own way. It finds reasons to be unhappy when all the world is shining around it and love is smiling through all things. They taught us, that no one who loves the way of grace, ever comes to a bad end.
This entry was posted in কণা পদার্থবিজ্ঞান, বিশ্বতত্ত্ব. Bookmark the permalink.

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s