<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:wfw="http://wellformedweb.org/CommentAPI/"
	xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	xmlns:georss="http://www.georss.org/georss" xmlns:geo="http://www.w3.org/2003/01/geo/wgs84_pos#" xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/"
	>

<channel>
	<title>সুবর্ণরেখা</title>
	<atom:link href="http://subarnarekha.com/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<link>http://subarnarekha.com</link>
	<description>আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী</description>
	<lastBuildDate>Wed, 25 Jan 2012 14:33:22 +0000</lastBuildDate>
	<language>bn</language>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>1</sy:updateFrequency>
	<generator>http://wordpress.com/</generator>
<cloud domain='subarnarekha.com' port='80' path='/?rsscloud=notify' registerProcedure='' protocol='http-post' />
<image>
		<url>http://0.gravatar.com/blavatar/4cb6ca2df42610c3f297a1cd4f5bd0ed?s=96&#038;d=http%3A%2F%2Fs2.wp.com%2Fi%2Fbuttonw-com.png</url>
		<title>সুবর্ণরেখা</title>
		<link>http://subarnarekha.com</link>
	</image>
	<atom:link rel="search" type="application/opensearchdescription+xml" href="http://subarnarekha.com/osd.xml" title="সুবর্ণরেখা" />
	<atom:link rel='hub' href='http://subarnarekha.com/?pushpress=hub'/>
		<item>
		<title>অপর পৃথিবী: তারার চারপাশে গ্রহ না থাকাটাই অস্বাভাবিক</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/15/planets-around-stars-are-the-rule-rather-than-the-exception/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/15/planets-around-stars-are-the-rule-rather-than-the-exception/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 15 Jan 2012 12:04:28 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[গ্রহবিজ্ঞান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=987</guid>
		<description><![CDATA[আজ থেকে ২০ বছর আগেও আমরা জানতাম না যে সূর্য ছাড়া আর কোন তারার গ্রহ রয়েছে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে তথাকথিত বহির্জাগতিক গ্রহ বা বহির্গ্রহ আবিষ্কৃত হতে শুরু করে। সম্প্রতি কেপলার পৃথিবীর সমান বা তার চেয়ে কিছুটা &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/15/planets-around-stars-are-the-rule-rather-than-the-exception/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=987&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আজ থেকে ২০ বছর আগেও আমরা জানতাম না যে সূর্য ছাড়া আর কোন তারার গ্রহ রয়েছে। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে তথাকথিত বহির্জাগতিক গ্রহ বা বহির্গ্রহ আবিষ্কৃত হতে শুরু করে। সম্প্রতি কেপলার পৃথিবীর সমান বা তার চেয়ে কিছুটা বড় গ্রহও আবিষ্কার করতে পারছে। আজকের হিসাব অনুযায়ী: আবিষ্কৃত মোট বহির্গ্রহের সংখ্যা ৭২৩। গ্রহ আবিষ্কারের সবচেয়ে কার্যকর এবং তথাপি জনপ্রিয় পদ্ধতি দুটি হচ্ছে অরীয় বেগ এবং ট্রানজিট। যেমন, এযাবৎ আবিষ্কৃত গ্রহগুলোর ৬৬৪ টিই আবিষ্কার করা হয়েছে এই দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে, এর মধ্যে ২০০টি ট্রানজিট এবং বাকিগুলো অরীয় বেগ পরিমাপের মাধ্যমে। এই আবিষ্কারগুলো থেকে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত টেনেছিলেন আকাশগঙ্গার শতকরা ১৭-৩০ ভাগ তারার চারপাশে কোন না কোন গ্রহ রয়েছে।</p>
<p><img src="http://www.eso.org/public/archives/images/screen/eso1204a.jpg" width="600" class="aligncenter" alt="" /></p>
<p>কিন্তু এই ১১ই জানুয়ারি বেরিয়ে এল একবিংশ শতকের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিজ্ঞান সংবাদ: আমাদের এই আকাশগঙ্গায় যত তারা আছে তারচেয়ে গ্রহের সংখ্যা বেশি। আরও সঠিকভাবে বললে, তারাপ্রতি গ্রহের সংখ্যা ১.৬। কিছু তারার হয়ত কোন গ্রহ নেই, আবার কিছু তারার আছে একাধিক, যেমন আমাদের সূর্যের আছে ৮টি। এটি আবিষ্কার করেছে ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির একদল জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী যাদের নেতৃত্বে ছিলেন আর্নো কাসাঁ, ডানিয়েল কুবাস এবং রিচার্ড হুক। তারা গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করেছেন বিখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল নেচারে (<a href="http://www.eso.org/public/archives/releases/sciencepapers/eso1204/eso1204.pdf">এখান থেকে পিডিএফ ডাউনলোড করা যাবে</a>)।</p>
<p>বাংলাদেশের মত পুরো ইউরোপই পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। সেই অষ্টাদশ শতকে যখন ইউরোপে আকাশ পর্যবেক্ষণবিদ্যার উন্নতি শুরু হয় তখনই জ্যোতির্বিদরা একটি সমস্যা টের পাচ্ছিলেন। তা হচ্ছে দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে পর্যবেক্ষণের অভাব। দক্ষিণ গোলার্ধে দুরবিন স্থাপন করে বহিশ্ছায়াপথীয় পর্যবেক্ষণ প্রথম শুরু করেছিলেন উইলিয়াম হার্শেলের ছেলে জন হার্শেল। তাদের ঐতিহ্যের সূত্র ধরেই একসময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরি (ESO বা ইসো) যাদের মূল পর্যবেক্ষণ শিবির দক্ষিণ আমেরিকার চিলিতে। চিলির আতাকামা মরুভূমি জ্যোতির্বিদদের হটস্পট। কারণ এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যেমন উঁচু, তেমনি শুষ্ক, যে কারণে বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ও প্রবাহ পর্যবেক্ষণে খুব কম ব্যাঘাত ঘটায়। আসলে এই মরুভূমি প্রমাণ করেছে উত্তর নয়, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের জন্য দক্ষিণ গোলার্ধই সবচেয়ে উপযোগী।<br />
<span id="more-987"></span><br />
<div class="wp-caption aligncenter" style="width: 610px"><img alt="" src="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/5/50/Paranal_Basecamp.jpg" width="600" class="aligncenter" /><p class="wp-caption-text">অদূরে চেরো পারানাল পাহাড়ের চূড়ায় ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ খ্যাত চারটি দুরবিন দৃশ্যমান, নিচে পর্যবেক্ষণ শিবির</p></div></p>
<p>তো ইসো তাদের ৬ বছরের গ্রহ জরিপের ফলাফল একসাথে করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। আর জরিপটি চালানো হয়েছে মহাকর্ষীয় অণুলেন্সিং (gravitational microlensing) পদ্ধতিতে। প্রশ্ন হচ্ছে তথাকথিত সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি অরীয় বেগ বা ট্রানজিট কেন ব্যবহার করা হল না। হয়নি কারণ, ঐ দুই পদ্ধতিতে এমন গ্রহগুলোই শুধু পাওয়া যায় যারা তাদের মাতৃতারার খুব নিকটে আছে। সুতরাং আগে যে বলা হয়েছিল ১৭-৩০% তারার চারদিকে গ্রহ আছে তা সংশোধন করে বলা উচিত, শতকরা ১৭-৩০ ভাগ তারার কাছাকাছি অঞ্চলে গ্রহ রয়েছে। কিন্তু অণুলেন্সিং এর মাধ্যমে ০.৫ থেকে ১০ নভো একক দূরত্বের মধ্যে সকল গ্রহ সনাক্ত করা যায়। উল্লেখ্য পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দূরত্বকে বলে ১ নভো একক। অণুলেন্সিং পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে তাই দেখে নেয়া যাক প্রথমে।</p>
<p>আইনস্টাইনের মহাকর্ষ সূত্র বলে ভারী বস্তু তার আশেপাশে স্থানকাল বাঁকিয়ে দেয়। আলো স্থানকালের মধ্য দিয়েই চলে। তাই স্থানকাল বেঁকে গেলে আলোর গতিপথও যাবে বেঁকে। এর মাধ্যমেই জন্ম হয় লেন্সিং প্রক্রিয়ার। তারা এবং গ্রহ যেহেতু অনেক ভারি সেহেতু তারাও স্থানকাল বাঁকাতে সক্ষম, অবশ্যই গ্রহের তুলনায় তারাসৃষ্ট বক্রতা অনেক বেশি হবে কারণ তারার ভর গ্রহের তুলনায় অনেক অনেক বেশি। তো ধরুন আমরা অনেক দূরের একটি তারা দেখছি, এখন আমাদের দৃষ্টিসীমার মাঝে যদি অন্য একটি তারা এসে পড়ে তাহলে পটভূমি তারার আলো পুরোভূমির তারার কারণে বেঁকে যাবে। এ কারণে পটভূমি তারার উজ্জ্বলতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যায়, আর যদি পুরোভূমি তারার চারদিকে আইনস্টাইন বলয়ের কাছাকাছি কোন গ্রহ থাকে তাহলে উজ্জ্বলতা কিছু সময়ের জন্য আরও বেড়ে যায়। নিচের ছবি দুটো আশাকরি অণুলেন্সিং বোঝার জন্য যথেষ্ট হবে:</p>
<p><a href="http://jyotirbiggan.wikispaces.com/file/view/cartoonmicrolensing.jpg/292191221/cartoonmicrolensing.jpg"><img alt="" src="http://jyotirbiggan.wikispaces.com/file/view/cartoonmicrolensing.jpg/292191221/cartoonmicrolensing.jpg" class="aligncenter" width="620" /></a></p>
<p><a href="http://jyotirbiggan.wikispaces.com/file/view/microlensing.png/292191175/microlensing.png"><img alt="" src="http://jyotirbiggan.wikispaces.com/file/view/microlensing.png/292191175/microlensing.png" class="aligncenter" width="620" /></a></p>
<p>অণুলেন্সিং খুবই বিরল ঘটনা। একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রতি ১০ লক্ষ তারার মধ্যে মাত্র একটি এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা প্রতি রাতে লক্ষ লক্ষ তারা একসাথে পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন আলোকবক্রে কোন হেরফের ঘটে কিনা দেখার জন্য। সময়ের সাথে কোন তারার উজ্জ্বলতার হ্রাসবৃদ্ধি দেখানোর জন্য যে লেখচিত্র আঁকা হয় তারই নাম আলোকবক্র। যে তারাগুলোর আলোকবক্রে অণুলেন্সিং এর ছাপ পাওয়া যায় সেগুলো চিহ্নিত করে রাখা হয়। এমনই একটি জরিপ হচ্ছে ওগলে বা অপটিক্যাল গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং এক্সপেরিমেন্ট। এই পরীক্ষায় অনুলেন্সিং এর মাধ্যমে পাওয়া গ্রহপ্রার্থীগুলো আরেকটি গবেষক দলকে জানানো হয় যার নাম প্ল্যানেট বা প্রোবিং লেন্সিং অ্যানোম্যালিস নেটওয়ার্ক। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অনেকগুলো দুরবিনের মাধ্যমে অনুলেন্সিং প্রার্থীগুলোকে নিবিঢ়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন প্ল্যানেট দলের বিজ্ঞানীরা। আজকে যে খবর নিয়ে লিখছি তা ওগলে-প্ল্যানেট যোগসাজোশেরই অবদান।</p>
<p>প্রশ্ন হচ্ছে, মাত্র কয়েকটি গ্রহ আবিষ্কার করেই বিজ্ঞানীরা কিভাবে বলে দিলেন যে সকল তারার গ্রহ আছে? এর জন্য প্রথমেই তারা ওগলে-প্ল্যানেট এর গ্রহ সনাক্ত করার দক্ষতা নির্ণয় করেছেন। যদি পর্যবেক্ষণকৃত প্রতিটি তারার চারপাশে একটি করে গ্রহ থাকে তাহলে কতগুলো অণুলেন্সিং ধরা পড়বে সেটাই হিসাব করা হল প্রথমে। এই রাশিটির একটি গালভরা নাম দেয়া যেতে পারে নিরূপণ ক্ষমতা (detection efficiency)। তো ২০০২ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ওগলে এবং প্ল্যানেট মিলে যতগুলো তারা পর্যবেক্ষণ করেছে তার সবগুলোরই যদি গ্রহ থাকে তাহলে আবিষ্কৃত গ্রহের সংখ্যা কত হওয়ার কথা সেটা খুব সহজেই বের করে ফেলা সম্ভব। এখন বাস্তবে যদি দেখা যায়, ঠিক ততোগুলো গ্রহই আবিষ্কৃত হয়েছে তাহলে নিচের দুটি সিদ্ধান্তের যে কোনটি টানা যায়:</p>
<p>১। আমরা ভয়ানক রকমের সৌভাগ্যবান।<br />
২। আসলেই প্রতিটি তারার চারপাশে গ্রহ আছে।</p>
<p>স্বজ্ঞা বলে আমাদের সৌভাগ্যের ইতিহাস বিশেষ সুবিধের নয়। পরিসংখ্যান সবসময় আমাদেরকে সৌভাগ্য থেকে বাস্তবতার দিকে নিয়ে আসতে সাহায্য করে। পৃথিবীর সব কাকতালকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে ব্যাখ্যার নামই যদি হয় পরিসংখ্যান তাহলে বলতেই হবে বিজ্ঞানের মতে আকাশগঙ্গার প্রতিটি তারার চারপাশেই গড়ে একের অধিক গ্রহ আছে। এমনকি তারা এই পরিসাংখ্যিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন ভরের গ্রহের সংখ্যা কেমন হওয়া উচিত তাও হিসাব করেছেন। দেখা গেছে গ্রহের ভর যত বাড়ে সংখ্যা তত কমে, অন্য কথায়, ভারী গ্রহের তুলনায় হালকা গ্রহের সংখ্যা বেশি। সেটা সত্য হলে পৃথিবীর মত গ্রহের সংখ্যাও প্রচুর হওয়ার কথা। কোন তারার ০.৫ থেকে ১০ নভো-একক দূরত্বের মধ্যে কোন গ্রহের সংখ্যা কেমন তার সারাংশ নিচের সংখ্যাগুলো দিয়ে প্রকাশ করা যায়:</p>
<p>১। ১৭% তারার বৃহস্পতি-সদৃশ (০.৩ থেকে ১০ বৃহস্পতি ভরের) গ্রহ আছে<br />
২। ৫২% তারার নেপচুন-সদৃশ (১০ থেকে ৫০ পার্থিব ভরের) গ্রহ আছে<br />
৩। গড়ে প্রতিটি তারার চারপাশে ১.৬ টি করে গ্রহ আছে। এখানে কেবল পৃথিবীর ভরের ৫ গুণ থেকে বৃহস্পতির ভরের ১০ গুণ ভারী গ্রহদের কথা বলা হচ্ছে।</p>
<p>আমাদের ছায়াপথে মোট তারার সংখ্যা প্রায় ৩০,০০০ কোটি। সে হিসেবে গ্রহের সংখ্যা ৪৮,০০০ কোটি। প্রায় পাঁচ হাজার কোটি গ্রহের কতগুলো প্রাণ বিকাশের উপযোগী হতে পারে এবং প্রাণ ধারণে সক্ষম গ্রহগুলোর মধ্যে কতগুলোতে বুদ্ধিমান প্রাণের বিকাশ ঘটতে পারে তা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে। কোথায় যেন পড়েছিলাম কোন সভ্যতার পতনের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে একঘেয়েমি। সেদিক থেকে বলা যায় আর যাই হোক অন্তত একঘেয়েমির জন্য আধুনিক মানব সভ্যতার পতন ঘটবে না। আমাদের একঘেয়েমি দূর করতে প্রতি দশকেই বেরিয়ে আসবে এমন সব শ্বাসরুদ্ধকর খবর।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/987/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/987/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/987/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/987/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/987/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/987/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/987/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/987/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/987/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/987/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/987/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/987/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/987/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/987/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=987&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/15/planets-around-stars-are-the-rule-rather-than-the-exception/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://www.eso.org/public/archives/images/screen/eso1204a.jpg" medium="image" />

		<media:content url="http://upload.wikimedia.org/wikipedia/commons/5/50/Paranal_Basecamp.jpg" medium="image" />

		<media:content url="http://jyotirbiggan.wikispaces.com/file/view/cartoonmicrolensing.jpg/292191221/cartoonmicrolensing.jpg" medium="image" />

		<media:content url="http://jyotirbiggan.wikispaces.com/file/view/microlensing.png/292191175/microlensing.png" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>পারমাণবিক নিরাপত্তা</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/13/nuclear-security/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/13/nuclear-security/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 13 Jan 2012 10:02:45 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[রাজনীতি]]></category>
		<category><![CDATA[শক্তি]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=983</guid>
		<description><![CDATA[সম্প্রতি জানা গেছে আকাশগঙ্গায় যত তারা আছে তার চেয়েও অনেক বেশি গ্রহ আছে। তারাপ্রতি গ্রহের সংখ্যা আনুমানিক ১.৬। আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতির মত দানব গ্রহের চেয়ে পৃথিবীর মত এবং পৃথিবীর চেয়ে বড় পাথুরে গ্রহ এবং নেপচুনের মত ক্ষুদে দানবের সংখ্যা &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/13/nuclear-security/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=983&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>সম্প্রতি জানা গেছে আকাশগঙ্গায় যত তারা আছে তার চেয়েও অনেক বেশি গ্রহ আছে। তারাপ্রতি গ্রহের সংখ্যা আনুমানিক ১.৬। আরও বলা হয়েছে, বৃহস্পতির মত দানব গ্রহের চেয়ে পৃথিবীর মত এবং পৃথিবীর চেয়ে বড় পাথুরে গ্রহ এবং নেপচুনের মত ক্ষুদে দানবের সংখ্যা অনেক বেশি। এটা যদি সত্য হয় তাহলে এই আকাশগঙ্গার অনেক গ্রহেই যে প্রাণের উৎপত্তি ঘটা বেশ স্বাভাবিক তা বলাই বাহুল্য। আর যদি প্রাণ ধারণকারী গ্রহের সংখ্যা বেশি হয় তাহলে ড্রেকের সূত্র অনুযায়ী বুদ্ধিমান প্রাণীর সংখ্যাও বেশি হবে। সেই বুদ্ধিমান প্রাণীরা মানুষের মতোই উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে শিখবে। কিন্তু সমস্যা হল আমরা কোন বহির্জাগতিক সভ্যতার দেখা পাইনি কেন? আমরা যোগাযোগ করতে না পারলেও এমন কোন সভ্যতা কি থাকতে পারতো না যারা আমাদের সাথে যোগাযোগে সক্ষম এবং ইচ্ছুক?</p>
<p>এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অনেকে বলেছেন, হয়ত উন্নতির একটি পর্যায়ে অধিকাংশ সভ্যতা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করে ফেলে। কোন সভ্যতা যতদিন একটিমাত্র গ্রহে আবদ্ধ থাকে ততদিন তার পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। যেমন পৃথিবীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর সব কল্পবিজ্ঞান লেখক ধরেই নিয়েছিলেন পারমাণবিক যুদ্ধের কারণে পৃথিবী আর বেশিদিন বাঁচবে না। এক দেশ আরেক দেশে পারমাণবিক বোমা ফেলতে ফেলতে একসময় পুরো পৃথিবীই ছেয়ে যাবে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, ধুয়া আর ধ্বংসাবশেষে। সে সময়কার অনেক কল্পবিজ্ঞান গ্রন্থে এর ছাপ পাওয়া যায়। তবে পৃথিবীর মানুষ শেষ পর্যন্ত যতোটা না ধ্বংসাত্মক তারচেয়ে বেশি সৃজনশীল। এজন্যই আমরা এখন পর্যন্ত ধ্বংস হইনি। তথাপি পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ রয়ে গেছে এবং তার অধিকারীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে।</p>
<p>বর্তমানে পৃথিবীর ৩২টি দেশের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের মত প্রযুক্তি এবং জ্বালানি রয়েছে। সবগুলো দেশই এসব অস্ত্রকে বর্তমানে রিটালিয়েশনের জন্য ব্যবহার করছে। অর্থাৎ কেউ তাকে আক্রমণের ভয় দেখালে সে পারমাণবিক অস্ত্র উঁচিয়ে ধরে চেঁচাতে পারবে যে, সাবধান আমারও কিন্তু আছে! একটি বড় ভয় হচ্ছে এসব অস্ত্রের কোনটি যদি সরকারী দপ্তর থেকে কোনভাবে কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে পড়ে তাহলেই সর্বনাশ। কারণ রাষ্ট্রের মত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর কোন দায়বদ্ধতা নেই। এসব ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি তাই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ৩২টি দেশের পারমাণবিক নিরাপত্তার অবস্থা নিয়ে গবেষণা হল। এতে করে বেরিয়ে এল কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।</p>
<p><img width="630" src="http://graphics8.nytimes.com/images/2012/01/12/science/12nukes/12nukes-popup-v2.jpg" alt="" /><br />
<span id="more-983"></span><br />
সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ওদিকে জাপানের অবস্থান ২৩ যা কাজাখস্তান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মত দেশগুলোরও পেছনে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে? বেলজিয়ামের সাথে যৌথভাবে ১৩তম স্থানটি দখল করেছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে উত্তর কোরিয়াকে, ৩১তম অবস্থানেই আছে পাকিস্তান।</p>
<p>গবেষণাটি করেছে যৌথভাবে ওয়াশিংটনভিত্তিক <a href="http://www.nti.org/">নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ</a> এবং লন্ডনভিত্তিক ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট। বিস্তারিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে <a href="http://www.ntiindex.org/results/#1-0">এই ওয়েব ঠিকানায়</a>। তাদের কথা হচ্ছে, দরজা বন্ধ করে কাজ করলে কখনোই এই নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা যাবে না। পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের প্রযুক্তিটি গোপন রাখলেও সেই প্রযুক্তি ব্যবহার ও সংরক্ষণে কোন দেশ কি ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে তা সবাইকে জানতে দেয়া উচিত। নয়ত যতোই বলা হোক না কেন সবকিছু সর্বোচ্চ নিরাপত্তার সাথে কথা হচ্ছে, আসলে ফাঁক রয়েই যাবে। এই গবেষণায় তেমনই অনেকগুলো ফাঁক ফোঁকরের কথা বেরিয়ে এসেছে।</p>
<p>২০১০ সালে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা নিরাপত্তার ব্যাপারে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। তারপর থেকেই এমন একটি গবেষণার চেষ্টা শুরু হয়। এক দেশকে পুরস্কৃত বা আরেক দেশকে তিরস্কৃত করা এই রেংকিং এর উদ্দেশ্য নয়, বরং সবাইকে নিরাপত্তার অবস্থা বুঝতে দেয়াই মুখ্য যাতে নতুনভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের চিন্তা করতে পারে সবাই।</p>
<p>গবেষণাটি মূলত করা হয়েছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত দুটি পারমাণবিক জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়াম নিয়ে। এই দুই জ্বালানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারে কোন দেশ কতোটা সতর্কতা অবলম্বন করেছে সেটাই ছিল প্রধান বিবেচ্য বিষয়। কিন্তু সন্ত্রাসীরা প্রযুক্তি জানলে আরও অনেক ধরণের ভয়ানক তেজস্ক্রিয় পদার্থ ব্যবহার করে বোমা তৈরি করতে পারে যাকে বলা হয় ডার্টি বম্ব বা নোংরা বোমা। ১৮টি পৃথক পৃথক বিষয়ে কোন দেশের অবস্থা কেমন সেটা দেখা হয়েছে। এর মধ্যে আছে সংরক্ষিত জ্বালানির পরিমাণ, নিরাপত্তার ভৌত অবকাঠামো, পরিবহন নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দুর্নীতি ইত্যাদি।</p>
<p>তবে মনে রাখতে হবে এই ৩২টি দেশের মধ্যে মাত্র ৯টি দেশ ইতিমধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করেছে, বাকিদের ব্যবহার শান্তিপূর্ণ। এই ৯ দেশের মধ্যে নিরাপত্তার দিক দিয়ে সবচেয়ে নিরাপদ যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও সেদিক দিয়ে খারাপ নয়। অথচ সেদিক দিয়ে শান্তির দেশ হিসেবে সুপরিচিত জাপানের অবস্থা বেজায় খারাপ। তার ২৩তম অবস্থানের কারণ মূলত, বিপুল পরিমাণ প্লুটোনিয়াম সংগ্রহ, নিরাপত্তার দেখভাল নিয়োজিত ব্যক্তিদের দুর্বলতা এবং স্বতন্ত্র স্বাধীন নিয়ন্ত্রক অধিদপ্তরের অনুপস্থিতি।</p>
<p>দেখা যাচ্ছে এই তালিকায় ইরানের অবস্থান সবচেয়ে খারাপ। কারণ দেশটি এখনও পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার শুরুই করেনি। কিন্তু উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ এবং তেহরানে একটি চুল্লী নির্মাণের জন্য তাকেও এই ৩২ দেশের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইরানের অবস্থান ৩০, পাকিস্তানের ঠিক আগে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি এবং পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের নিম্নমানের প্রযুক্তির কারণেই তার এ বেহাল দশা। পাকিস্তানের ৩১তম হওয়ার কারণ আবারও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, এছাড়াও আছে যাতায়াত নিরাপত্তার অভাব এবং দেশব্যাপী প্রভাবশালী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি। উত্তর কোরিয়াতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তেমন না থাকলেও তাদের রাজনীতি, যাতায়াত এবং নিরাপত্তার অবস্থা পাকিস্তানের চেয়ে খারাপ।</p>
<p>সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে, অধিকাংশ দেশের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূল কারণ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং দুর্নীতি। ভবিষ্যতে যদি কখনো পারমাণবিক অস্ত্র ভুল হাতে গিয়ে পড়ে তাহলে তার প্রধান কারণ হবে, সারকারী প্রশাসনের ভেতর দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। তবে আমি নিশ্চিত বলতে পারছি না এই রেংকিং এর গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু, তবে এটুকু বলতে পারি কিছু না জানারে চেয়ে এটুকু জানা ভাল। আরও এটাও সত্যি দেশপ্রেমের তোড়ে, বা আমেরিকাবিদ্বেষে গা ভাসিয়ে দিয়ে তাদের সবকিছু বর্জন করার যে গণপ্রবণতা লক্ষ্য করা যায় তা ভাল নয়। ভবিষ্যতে পৃথিবীর সব দেশ একত্রিত হয়ে ইউনাইটডে আর্থ স্পেস এজেন্সি গঠন করার মাধ্যমে তারায় তারায় ছড়িয়ে পড়বে এই হোক আমাদের কামনা।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/983/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/983/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/983/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/983/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/983/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/983/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/983/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/983/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/983/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/983/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/983/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/983/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/983/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/983/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=983&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/13/nuclear-security/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://graphics8.nytimes.com/images/2012/01/12/science/12nukes/12nukes-popup-v2.jpg" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>অক্সিডেন্ট আর ছায়াশ্রমিক- মধ্যিখানে ব্রেনার পাস</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/13/travelling-through-brenner-pass/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/13/travelling-through-brenner-pass/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 13 Jan 2012 00:07:50 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[ব্লগরব্লগর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=981</guid>
		<description><![CDATA[রোমে আসার আগে শুনতাম এই শহরে নাকি ৩০,০০০ বাঙালি আছে, আসার আগে বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু আসার পর মনে হচ্ছে সংখ্যাটা এরও বেশি হতে পারে। আমি থাকি মূল শহরের বাইরে গ্রামমত একটা জায়গায়, আশেপাশে অনেক খোলা জায়গা, পাশেই ইউনিভার্সিটি। শহরকেন্দ্রে পৌঁছাতে &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/13/travelling-through-brenner-pass/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=981&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>রোমে আসার আগে শুনতাম এই শহরে নাকি ৩০,০০০ বাঙালি আছে, আসার আগে বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু আসার পর মনে হচ্ছে সংখ্যাটা এরও বেশি হতে পারে। আমি থাকি মূল শহরের বাইরে গ্রামমত একটা জায়গায়, আশেপাশে অনেক খোলা জায়গা, পাশেই ইউনিভার্সিটি। শহরকেন্দ্রে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘণ্টা, বাসে ২০ মিনিট আর মেট্রোতে ৪০ মিনিট। প্রধান বাস এবং ট্রেন স্টেশনের কারণে কেন্দ্রটির নাম তেরমিনি (Termini)। এখান থেকেই শুরু অভিবাসীস্থানের। তেরমিনির ঠিক আগের মেট্রো স্টেশনের নাম ভিত্তোরিও এমানুয়েল্লে (ছোট্ট করে আমরা ভিত্তোরিও ডাকি)। একীভূত ইতালির প্রথম রাজা ভিত্তোরিও এমানুয়েল্লে ২ এর নাম অনুসারে এর নাম। তেরমিনি থেকে হাঁটা ধরলে, যতোই ভিত্তোরিওর কাছাকাছি যাবেন ততোই মনে হবে বুঝি বাংলাদেশের দিকে এগোচ্ছেন, এমনকি দোকানগুলোর নামও বাংলাতে লেখা, যেন কোন বড়সড় চায়নাটাউন। হাঁটতে হাঁটতে যদি বহু বছর আগের কোন বাঙালি বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায় তাও অবাক হবেন না।</p>
<p>ভিত্তোরিও বাজার মূলত বাঙালিদেরই। কয়েক শত দোকানের মধ্যে শতকরা ৭০ ভাগই বাঙালিদের। এখানে দেশী প্রায় সবকিছুই পাওয়া যায়, বাজারের বাইরে সেলুন, কনফেকশনারি, মিষ্টি বা মোবাইলের দোকান সব জায়গাতেই বাংলা লেখা, বাংলা পোস্টার এবং এমনকি স্থানীয় বাংলা পত্রিকারও দেখা মেলে। প্রথম রোম এসেছেন, ইতালিয়ানো জানেন না, হারিয়ে ফেলেছেন রাস্তা? ইতালিয়ানরা অস্ট্রিয়ানদের মত হেল্পিং না হওয়ায় জিজ্ঞাস করেও লাভ হচ্ছে না? কয়েক কদম হাঁটলেই পেয়ে যাবেন কোন বাঙালি, জিজ্ঞাস করলেই সব দেখিয়ে দেবে।</p>
<p>এত রং দেখেও একটা বিষয় ভুলে গেলে চলবে না, এসবের কিছুই তথাকথিত উচ্চশিক্ষিত বা অভিজাত বাঙালির হাতে তৈরি নয়। তেরমিনি, ভিত্তোরিও বা তোরপিনিয়াত্তারা-র রাস্তা দিয়ে হাঁটলে গুলশান-বনানীর কথা মনে পড়ে না। রোমের বাঙালিদের শতকরা ১০০ ভাগই ওয়ার্কার, তিনটা বড় বড় ইউনিভার্সিটি ঘুরেও কয়েকজনের বেশি বাঙালি ছাত্র খুঁজে পাওয়া যাবে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে এই অভিবাসীদের অনেকেই অবৈধ, বৈধ ভিসা নিয়েই এসেছিলেন কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে গেছেন। শুধু রোম কিন্তু নয় ইতালির মিলানো (মিলান), ভেনেৎজিয়া (ভেনিস), বোলৎজানো সব জায়গাতেই বাঙালি আছে। কিন্তু রোমীয় বাঙালিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি (আমার অনুমান মতে)। অনুমানটা কিভাবে করলাম বলি:<br />
<span id="more-981"></span><br />
একটা কাজে অস্ট্রিয়া যাচ্ছিলাম। টাকা বাঁচানোর জন্য ডাইরেক্ট ট্রেনে না গিয়ে লোকাল ট্রেনে ভেঙে ভেঙে যাওয়ার প্ল্যান করলাম। রোম থেকে বোলৎজানো পর্যন্ত চলে গেলাম মাত্র ৩৫ ইউরোতে (এখন থেকে ইউরো না বলে টাকা বলব, তবে এ কিন্তু বাংলাদেশী টাকা না, এখানকার সবাই ইউরোকে টাকাই বলে, দোকানে গিয়ে কিছু নেয়ার পর আপনি “কত টাকা” জিজ্ঞাস করবেন, “কত ইউরো” নয়…)। বোলৎজানো ইতালি-অস্ট্রিয়া সীমান্তের খুব কাছে। এখানে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছি এমন সময় এক লোক এসে জিজ্ঞাস করল, “ভাই কি বাঙালি নাকি?” এখানে কোন বাঙালির সাথে দেখা হলে অবাক হওয়ার সুযোগ নেই খুব, দেখা হলেই ধরে নেয়া যায় সে বাঙালি ওয়ার্কার (শ্রমিক না বলে ওয়ার্কার বলব, কারণ এখানে কাওকে শ্রমিক বললে মাইন্ড করবে কিন্তু ওয়ার্কার বললে মাইন্ড করবে না।) আমাকে দেখে অবশ্য তিনি ওয়ার্কার বলে ধরে নিলেন না, কেন জানি না জিজ্ঞাস করলেন, “ভাই কি ছাত্র না ওয়ার্কার”। ছাত্র পরিচয় দেয়ার পর হতাশ হলেন তিনি, সাথে আরও একজন বাঙালি ছিলেন।</p>
<p>দুজনের চরিত্র বেশ ভিন্ন, তাদের নাম মনে নেই, ক এবং খ বলি। ক অনেকদিন ধরে ইতালিতে আছেন কথা শুনলেই বোঝা যায়, আশপাশে কি ঘটছে বেশ ভালই জানেন এবং বোঝেন। রোম থেকে আসছি জানার পর খ সরাসরিই জিজ্ঞাস করলেন, “ভাই রোমে বেকার কেমন?” সাথে সাথেই ক, খ-কে বেশ ধমকের সাথে বললেন, আরে উনি এইটা কেমনে জানবে, উনি কি ওয়ার্কার নাকি। খ যতই বলে আরে আইডিয়া তো থাকতে পারে, ক প্রত্যুত্তরে ততোই বলে, যত যাই বল ওয়ার্কার এবং ছাত্রদের মধ্যে কোন সম্পর্ক কোথাও তৈরি হয় না। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অস্বাভাবিকও ছিল না, সত্যিই আমি জানতাম না রোমে বেকারত্বের হার কেমন। কাহিনী হচ্ছে, ক-খ কমবেশি ১০ বছর ধরে ইতালিতে অবৈধভাবে আছে, যথারীতি এই ১০ বছরে দেশে যাওয়ার প্রশ্নই উঠেনি। সম্প্রতি তারা চাকরি হারিয়েছে। অবশ্য কোন চাকরিই স্থায়ী নয়, প্রাপ্তি আর হারানোর চক্রই এখানকার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ওদের হাতে টাকা নেই খুব বেশি, থাকেন ভেরোনাতে। ভেরোনায় চাকরির আশা নেই দেখে আশপাশের কয়েকটা শহর ঘুরে দেখছেন চাকরি মেলে কিনা। এখন যাচ্ছেন মেরানো শহরে, বোলৎজানো থেকে খুব কাছেই। মেরানোর ট্রেনও খুঁজে পাচ্ছিলেন না, ওয়ালের সাইন পড়েটড়ে আমরা খুঁজে বের করলাম ট্রেনটা। পাশাপাশি প্লাটফর্ম, ৪ নম্বরের ট্রেন যাবে মেরানোতে আর ৩ নম্বরের ট্রেনে আমি যাব ব্রেনারো। ট্রেন আসার আগে ১৫ মিনিট তাই আরও কিছু কথা হল।</p>
<p>আমি ছাত্র শুনে ওদের হতাশার কারণ, স্বভাবতই রোমের বেকারত্ব নিয়ে আমি কোন ইনসাইট দিতে পারব না। অস্ট্রিয়া যাচ্ছি শুনে তাদের চোখের এক্সপ্রেশনও লক্ষ্য করার মত, চোখেমুখে অপ্রাপ্তির ঝিলিক, সীমান্ত পাড়ি দিলেই স্বপ্নের দেশ অস্ট্রিয়া, আর সেই সীমান্তটা হচ্ছে সীমানাবিহীন। শেংগেন জোন হওয়ায় অস্ট্রিয়া-ইতালির মধ্যে কোন সীমানা নেই, অবাধ যাওয়া-আসা, তারপরেও তারা অবধারিতভাবে জানেন অস্ট্রিয়া গিয়ে কোন লাভ নেই, সেখানে কেউ তাদের চাকরি দেবে না, উল্টো ইমিগ্রেশনে ধরা খেতে হবে। এখন সকাল, মেরানো গিয়ে তারা সারাদিন পথেঘাটে চাকরি খুঁজবেন, যদিও পুরো শহরে পরিচিত কেউ নেই, সন্ধ্যা অব্দি চাকরি না পেলে আবার ফিরে যাবেন নিজের শহরে।</p>
<p>ট্রেনে যাওয়ার সময় ভাবছিলাম, “ডার্টি প্রিটি থিংস” সিনেমার রজার ইবার্টকৃত রিভিউয়ে যে “শ্যাডো ওয়ার্কার” বা ছায়াশ্রমিকদের কথা পড়েছিলাম এরাই তার প্রমিত উদাহরণ। এটি ছিল আমার প্রথম ভৌতিক ট্রেন ভ্রমণ। আমার ট্রেন আগে এসেছিল, আমাদের বিদায়টা আবেগঘন ছিল না, কেউ হাতও নাড়িনি, কিন্তু মনের ভেতর কিছু একটা নাড়া দিয়ে যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল আমি ভূতের গাড়িতে চড়ে পেরিয়ে যাচ্ছি লৌকিক শহর।</p>
<p>ব্রেনার নামার পর অবস্থার আমূল পরিবর্তন। তীব্র ঠাণ্ডা সেই সাথে বৃষ্টি। পুরো স্টেশন খালি, কয়েকটা প্লাটফর্মে ইতালির পুরনো লক্করঝক্কর ট্রেন, একটি প্লাটফর্মে চেপে আছে কেবল লাল রঙের একটি বুলেট ট্রেন, আমার ইতালি ত্যাগের বাহন। যেতে হবে ব্রেনার থেকে অস্ট্রিয়ার প্রথম বড় শহর ইন্সব্রুকে। এর আগে একবার এই পথ দেখেছিলাম, ইন্সব্রুক ছেড়ে রোম আসার সময়। কিন্তু এবারের যাত্রা ভুলব না কোনদিন। মনে হচ্ছিল, পেছনে ফেলে এসেছি কিছু ছায়াশ্রমিকদের যাদের অস্তিত্ব স্বীকার করে না ইতালি, যারা পথে পথে ঘুরে এখন চাকরি খুঁজছে, যারা আমাকে দেখে হতাশ হয়েছিল, আর সামনে অপেক্ষা করছে পৃথিবীর অন্যতম সুসংগঠিত দেশ অস্ট্রিয়া যেখানে আমার জন্য একটা সুসজ্জিত হোটেল রুম রিজার্ভড হয়ে আছে। একদিকে পুরনো ঐতিহ্য আার গৌরবের স্মৃতিতে ক্রন্দনরত ইতালি, অন্যদিকে সমৃদ্ধি ও শান্তির বিচারে প্রায় স্যাচুরেটেড একটি আদর্শ অক্সিডেন্টাল দেশ অস্ট্রিয়া, মধ্যিখানে যে কি আছে সে আমি পৌঁছানোর আগে কল্পনাও করতে পারিনি।</p>
<p>মাঝখানে আছে ব্রেনার পাস, একটি অ্যালপাইন (আল্পস পর্বতমালা) গিরিপথ, যে পথ ছিল অনেক দিগ্বিজয়ী বিশ্বভিলেনদের (রাষ্ট্রনায়ক নয় কিন্তু) আশার খনি, যেখানে আছে ইউরোপের উচ্চতম সেতু, যে আমাকে কখনোই যাত্রাপথে ঘুমাতে দেয় না। দুই পাশে পাহাড়, মাঝখানে ভাটি কিন্তু সমতল উপত্যকা নেই, তাই রাস্তা করতে হয়েছে পাহাড়েরই গাঁ ঘেষে, একপাশে উঁচু পর্বতচূড়া, আরেকপাশে বিশাল নিচু ভাটি তারপরেই আবার পাহাড়। একপাশের পাহাড়ের গাঁ ঘেষে রেললাইন তো অন্য পাশের পাহাড় ছুঁয়ে সড়কপথ। পাহাড় ঘেষে মেঘের দল, মাঝে মাঝে অপ্রত্যাশিতভাবে কোন পাহাড় উঁকি দিয়ে যায় মেঘ কেটে।</p>
<p>আচ্ছা, চলচ্চিত্র কি জিনিস? অনেকগুলো স্থিরচিত্রের সুচতুর বিন্যাসই তো, তাই না? যাত্রাপথে ব্রেনার পাস ছিল আমার কাছে সিনেমা দেখার মত। জীবনের মূল চাবিকাঠি যেমন পরিবর্তন, সিনেমারও মূলমন্ত্র তেমন পরিবর্তন, কোন একটি দৃশ্য আগেরটির মত নয়, যে পরিবর্তন আমাদেরকে করে তোলে পারভার্ট শিল্পখাদক। ব্রেনার ধরে যত এগোই সবকিছুই তত পরিবর্তিত হতে থাকে। ইতালির ধ্বংসস্তূপ ধিরে ধিরে মুছে যায়, মুছে যায় দারিদ্র্যের চিহ্ন আর ঐতিহ্যের ভূত, বর্তমান এসে ধরা দেয়। প্রকৃতির প্রতি বিশ্বস্ত থেকেও একবিংশ শতক কিভাবে অর্ঘ্য হয়ে উঠতে পারে তার প্রমাণ অস্ট্রিয়া। কিন্তু মনের গভীরে আমি জানি ফিরে আসতে হবে আবার ইতালিতেই, ছায়াশ্রমিক আর বেকার ছায়ামানবদের মাঝে। সেদিক দিয়ে ব্রেনার পাস অতিক্রম কেবল প্রামাণ্য চিত্রই নয় বরং মেলোড্রামা। মেলোড্রামা কিভাবে হল সে আমি ফিরে আসার আগে বুঝতে পারব না।</p>
<p>আমার গন্তব্য অস্ট্রিয়ার আল্পবাখ, আল্পসেরই কিছু পর্বতের চূড়ায়। ইন্সব্রুক পাড় হয়ে চলে গেলাম ব্রিক্সলেগ যেখান থেকে আল্পবাখের বাস ধরতে হবে। স্টেশন খুঁজে না পাওয়া একজনকে জিজ্ঞেস করতেই সে বলল, “are you by any chance going to Alpbach too?” তখন থেকেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা, ইউরোপের প্রায় ২০টি দেশের ৬০ জন ছাত্রের সাথে ১০ দিন থাকলাম আল্পবাখে, যথারীতি দেখেছি কেবল ইউরোপ। ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির (এসা) আনুষ্ঠানিক সামার স্কুল এটা। এসা-র বিজ্ঞান পরিচালকের মুখে এবার ইউরোপের স্তূতি, আমেরিকার নাগাল ধরার প্রতিজ্ঞা, মহাশূন্যে ইউরোপ চায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগাল ধরতে, আমরা তবে কি চাইব, বাঙালিরা কোথায় কার নাগাল ধরতে চাইবে ভেবে কোন কূল কিনারা পাই না। আল্পবাখে এরভিন শ্রোডিঙ্গারের কবর। কবর দেখে ফেরার পথে এক আইরিশ তরুণী বলল, “you can understand the height of a society by observing how they respect their deads.” হয়ত তাই, আরও পরখ করে দেখতে হবে সত্যি কিনা।</p>
<p>১০ দিন পর এবার রোম ফেরার পালা। আবার সেই ব্রেনার পাস। এবারও ব্রেনার যাওয়ার আগে মধ্যবিরতি দিলাম ইন্সব্রুকে, কারণ এই শহরই ইউরোপে আমার প্রথম বাসস্থান, এখানে আসলে কেন জানি মনে হয় বাড়ি এসেছি। ব্রেনার পাস অতিক্রমের সময় একেবারে উল্টো চিত্র এবার। সৌম্য-সুন্দর দালান কোঠা আর সুসজ্জিত গ্রামগুলো পেরিয়ে আবার ধ্বংসস্তূপের দিকে। পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী সিনেমা এটা, কারণ কোন সিনেমাই সামনে-পিছে দুইদিক থেকে দেখা যায় না। ইউরোপে সিনেমা দেখতে হলে গড়ে ৭ ইউরোর টিকেট লাগে। ইন্সব্রুক থেকে ব্রেনারের ভাড়াও প্রায় ৭ ইউরো।</p>
<p>আমার ফিরতি রুট একই। ব্রেনার থেকে আবার পৌঁছলাম বোলৎজানোতে। দুপুড় দেড় টায় পৌঁছে দেখি রোমের প্রথম সস্তা ট্রেন রাত সাড়ে ৯ টায়। উপায়ান্তর না দেখে বেরিয়ে পড়লাম বোলৎজানোতে। এটা জার্মান-ইতালির মিতালি শহর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে হিটলারের দখলেই ছিল, শহরের অধিকাংশ মানুষও জার্মান, ইতালিয়ানোর চেয়ে জার্মান ভাষাই বেশি চলে। স্টেশন থেকে বেরোলেই একটি ঝর্ণা এবং তার পরে বড় একটি পার্ক। পার্কে বসে কতক্ষণ সময় কাটানো যাবে হিসাব করছি এমন সময় মনে পড়ল বিফোর সানরাইজ সিনেমাটার কথা। নায়ক-নায়িকা ভিয়েনা দেখতে বেরোনর আগে লাগেজ রেখে গিয়েছিল বক্সে, ট্রেন স্টেশনে তো চাবিসহ বক্স থাকার কথা যেখানে লাগেজ রাখা যাবে, কিন্তু বোলৎজানোতে পেলাম না। পার্কের আশেপাশেই থাকতে হল। পুরো শহরটাই পাহাড় ঘেরা অনেকটা ইন্সব্রুকের মত।</p>
<p>পার্কে ঘুরতে ঘুরতে দূরের এক বেঞ্চিতে দুজনকে দেখে বাঙালি বলে সন্দেহ হল। কাছে গিয়ে দেখি মোবাইলে বাংলায়ই কথা বলছে। আমি আরেকটি বেঞ্চে বসলাম, অনেকক্ষণ তারা কথাই বললেন। কথা শুনে বুঝলাম, একজন গ্রামের চেয়ারম্যান ছিলেন, বোলৎজানোতে এসেও তিনি বাঙালি কম্যুনিটির মুরব্বি হয়েছেন। আরেকজন তার চ্যালা সেটাও বুঝে নিলাম। তাদের অবস্থা মোটেও আগের দুজন ওয়ার্কারের মত নয়, তারা খুবই সচ্ছল এবং বেশ ভাল টাকা-পয়সা কামিয়ে নিয়েছেন অলরেডি। ১ ঘণ্টা ধরে তাদের আলাপ-আলোচনায় টাকা-পয়সা ছাড়া অন্য কোন বিষয় আসেনি। দুজনেই বেশ বয়স্ক বলে একটু গুরু-গম্ভীরই ছিলেন। তাদের কাছেই আমি রোমের কাহিনী শুনলাম, বললেন, বোলৎজানোতে অত বাঙালি নেই, আজকে বাঙালি পেয়ে গেছি কারণ ছুটির দিন; এমন দিনে সবাই পার্কে হাওয়া খেতে আসে। সব মিলিয়ে হাজার খানেক বাঙালি আছে এই শহরে, তবে সবারই স্থায়ী চাকরি আছে এবং প্রায় কেউই অবৈধ নয়। রোমে হচ্ছে উল্টো, বাঙালির সংখ্যা অনেক বেশি হলেও মুরব্বির কথা অনুসারে রোমের শতকরা ৯৯ ভাগ বাঙালি রাস্তায় ফেরি করে, তাদের কোন স্থায়ী চাকরি নেই। পরিসংখ্যানটা বিশ্বাস না করলেও তার পরিস্থিতির ব্যাখ্যাটা আমার বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়েছে।</p>
<p>কথাগুলো শুনে আনমনা হয়ে গিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল যদি ব্রেনার পাস সিনেমাটা আরেকটা থিয়েটারে আবার দেখতে পারতাম। মানে যদি আবার গিয়ে দাঁড়াতাম ৪ নম্বর প্লাটফর্মে, ব্রেনারের বাস ধরার জন্য, দেখা হতো সেই ক-খ এর সাথে, তাদের দেখিয়ে দিতাম মেরানো যাওয়ার ট্রেন আর জানিয়ে দিতাম রোম আর বোলৎজানোর অবস্থা। বলতাম, আমার পরিচিত এক বাঙালি মুরব্বি আছে এই বোলৎজানোতেই। রোমে গিয়ে কোন লাভ নেই, ৩৫ টাকা খরচ করে গিয়ে দেখবেন কোন চাকরি নাই, সবাই রাস্তায় ফেরি করে, কোনদিন কত আয় হবে তার কোন ধারণা নাই। বরং বোলৎজানো জার্মানমুখী শহর, ভাবসাবই অন্যরকম, এটা ঐতিহ্যপ্রেমী ইতালি নয় বরং প্রযুক্তিপ্রেমী অক্সিডেন্টালদের শহর। এখানে একটা না একটা ব্যবস্থা হয়েই যাবে। জীবনে কত ঘটনা অসময়ে ঘটে, পুরো জীবনটাই আসলে অসময়ে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার সমষ্টি।</p>
<p>আল্পবাখ ভ্রমণ নিয়ে আমার কোনদিন কিছু লেখার ইচ্ছা হতো কিনা জানি না। আজকে লিখতে বসে গেছি স্টিফেন ফ্রিয়ার্স এর “ডার্টি প্রিটি থিংস” সিনেমাটা দেখে। অভিবাসীদের নিয়ে এর চেয়ে ভাল সিনেমা হয়েছি কিনা জানি না। এর পটভূমি লন্ডনে, নাইজেরিয়ার একজন অভিবাসীকে দিয়ে কাহিনীর শুরু, নাম ওকুয়ে, সে সারাদিন ট্যাক্সি চালায়, সারারাত হোটেল রিসেপশনে কাজ করে আর নিজের শরীরকে ২৪ ঘণ্টা জাগিয়ে রাখার জন্য অবৈধ হারবাল লতা-পাতা খায়। এক তুর্কী মেয়ের (সেনাই) এপার্টমেন্টের সোফায় থাকে ভাড়া দিয়ে। ওয়ার্ক পারমিট নেই বলে সেনাইয়ের কাজ করা নিষেধ, বেঁচে থাকার জন্য তাও তাকে লুকিয়ে কাজ করতে হয়, আর ভ্যাম্পায়াররূপী ইমিগ্রেশন অফিসাররা তাকে সর্বক্ষণ চোখে চোখে রাখার চেষ্টা করে। থ্রিলের শুরু হয় যখন ওকুয়ে হোটেলের একটি রুমের টয়লেট কমোডে একটি মানব হৃৎপিণ্ড আবিষ্কার করে। একসময় জানতে পারে অবৈধ অভিবাসীরা এই হোটেলে আসে কিডনির বিনিময়ে পাসপোর্ট নিতে। অদক্ষ ডাক্তার দিয়ে নষ্ট পরিবেশে অপারেশন করানোয় অনেকেই মারা যায়, তেমনই একজনের হৃৎপিণ্ড এসেছিল তার হাতে।</p>
<p>অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের প্রকৃত সামাজিক পরিস্থিতি সিনেমার একটি ঘটনায় ফুটে ওঠে। সেনাই একটি কাপড়ের ফ্যাক্টরিতে সেলাইয়ের কাজ করে, এই ফ্যাক্টরির সবাই অবৈধ, পুলিশ দেখলে ঘণ্টা বাজানো হয় এবং সবাই লুকিয়ে পরে। এ দিয়ে বোঝানো হয় অবৈধ অভিবাসীদের ছাড়া ইউরোপের শিল্প-কারখানা কতোটা অচল। পুলিশ এসে বৈধ নিয়োগদাতাকে সেনাইয়ের কথা জিজ্ঞাস করে, উত্তরে সে বলে দেখতে পাচ্ছ না ফ্যাক্টরি পুরো খালি, এখানে কেউ কাজ করে বলে মনে হয় তোমাদের? আশ্বস্ত হয়ে ইমিগ্রেশন অফিসাররা চলে যায়। নির্মম ডার্ক কমেডি এটা। অফিসাররা কিন্তু জানে ফ্যাক্টরি চলছে এবং এখানের সবাই অবৈধ বলেই ওরা আসার পর সবাই পালিয়েছে। কিন্তু তারা উচ্চবাচ্চ করবে না, কারণ তাহলে পুরো লন্ডনই খালি করে ফেলতে হবে। ওদের টার্গেট শুধু ওয়ার্ক পারমিটবিহীন সেনাইকে ধরা, নিজেদের ক্যারিয়ার ধরে রাখার জন্য একজনই যথেষ্ট। রোমের অবস্থাও এমন, হাজার হাজার অবৈধ শ্রমিক আছে এটি ওপেন সিক্রেট, কিন্তু কেউ এটা নিয়ে কথা বলে না, কারণ অবৈধ শ্রমিকদের মতো নামমাত্র মূল্যের মানুষ আর কোথায় পাওয়া যাবে? পরের দৃশ্যেই সেনাই ছায়াশ্রমিকদের আদর্শ প্রতিনিধিতে পরিণত হয়। ফ্যাক্টরির নিয়োগদাতা বলে পুলিশ তার খোঁজ করছিল। সে ধরিয়ে দিতে চায় না, কিন্তু বিনিময়ে তার শিশ্ন চেটে দিতে হবে। এই নিয়োগদাতাই পাশ্চাত্যের ককসাকিং প্রজন্মের প্রডাক্ট।</p>
<p>প্রকৃত অবস্থাই এটা। পুলিশ অবৈধদের নিয়ে মাথা ঘামায় না, মাঝেমধ্যে কিছু ধরপাকড় হয়তো করে, রোমে একেবারে করে না বললেই চলে। কারণ শিল্পমালিকদের স্বার্থ জড়িত আছে এতে। এই শ্রমিকদের অক্সিডেন্টের আসলেই দরকার, কিন্তু শুধু শুধু এদের বৈধ করে তো লাভ নেই, কারণ অবৈধদের ক্ষেত্রে কোন কর্মনীতি বা আইন খাটে না, তাদের ইচ্ছামতো খাটিয়ে নেয়া যায় নামমাত্র মূল্যে। রজার ইবার্টের রিভিউয়ে এরই প্রতিধ্বনি শোনা যায়,</p>
<blockquote><p>How they live in constant fear of immigration officials, who want to deport them, even though a modern Western economy could not function without these shadow workers.</p></blockquote>
<p>কিডনি খুইয়ে আর হৃৎপিণ্ড বাজি রেখে কিসের আশায় মানুষ এতদূর আসে সে প্রশ্ন করা বৃথা। সে প্রশ্ন কেবল পাগলেরাই করে। এক স্প্যানিশ পাগল আমাকে এমন একটা প্রশ্নই করেছিল। ফিরে যাই বোলৎজানোর পার্কে। ৪জন লোক আমাদের বেঞ্চির দিকে আসছিল, আমি এক কোণায় সরে এসে ওদের জায়গা দিলে বলল গ্রাসিয়াস। কথা শুনে বুঝলাম স্প্যানিশ। একজন পুরো পাগল, বাকিরাও ভাবের পাগল, তবে সবারই দৈন্য দশা। অর্থকড়ি কিছু আছে বলে মনে হয় না। পাগল লোকটা সেই শুরু থেকেই আমাকে খোঁচাচ্ছে। কারণ তার নাকি পুরো বেঞ্চটা লাগবে, আমি যেন অন্য কোথাও চলে যাই। বাঙালি দুজন যাওয়ার সময় ইতালিয়ান ভাষায় ওকে বুঝিয়ে বলল আমি ছাত্র, টাকা-পয়সা নাই। প্রথম কথা পাগল কিছুতেই মানতে রাজি না যে আমি পড়াশোনা করতে এখানে এসেছি, তার কথা পড়াশোনা করার কি দরকার, সে তো কোনদিন পড়াশোনা করেনি। উচ্চশিক্ষার তাৎপর্য বোঝাতে ব্যর্থ হয়ে আমি মেনেই নিলাম আচ্ছা আমি ভাই কাজ করতেই এসেছি। উঠে যাচ্ছিলাম না শেষটা দেখতে। তারপরই বাঙালিদের নিয়ে তার হা-হুতাশ শুরু, সে বলে কিসের কারণে এই দেশে আসে অন্যের পা চাটতে যদিও সে নিজে সর্বদাই এই কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও কথা শুনে মজা পেলাম। সে আমার কাছে টাকা ধার চায়, আবার কোনদিন দেখা হলে দিয়ে দেবে, সে যে কপর্দকশূন্য না তা বোঝানোর জন্য পকেট থেকে কয়েক পয়সার ক্রোনার বের করে দেখালো আর আমাকে খুব বুঝিয়ে বলল এগুলোর একেকটার টাম কয়েক শ ইউরো। আমার যদ্দূর মনে হয় এরা এখানে আটকে গেছে, ভাড়া নেই বলে কোথাও যেতে পারছে না, যদিও সত্যটা জানা হবে না কোনদিন। কয়েক পয়সা দিয়ে কেটে পড়লাম ওখান থেকে, কারও বিশ্বাস নেই, নিরিবিলি হওয়ার আগেই কেটে পড়া উত্তম।</p>
<p>ট্রেনে ওঠার আগে আরও দুই বাঙালির সাথে দেখা। একজনের পরিবারও এখানে আছে। স্বামী-স্ত্রী আর তাদের দুই ছেলে, পার্কে ঘুরতেই এসেছিল, এখন বাড়ি ফিরছে। মুরব্বির কথা যে মিথ্যা নয় তা বুঝে গেলাম মোটামুটি। বোলৎজানোর বাঙালিরা বেশ বিত্তশালী এবং সংগঠিত। কারণ মুরব্বির কথা বলতে তারা খুব ভালই চিনতে পারল। অবশেষে আমি সব গুছিয়ে নিয়ে রাত সাড়ে নয়টায় ট্রেনে উঠলাম। রোমে ফিরে দেখি মেট্রো মেরামতের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। এ বাস ও বাস করে বহু কষ্টে ৩ ঘণ্টা লাগিয়ে বাসায় ফেরার পর কিছু মনে ছিল না, একটি সামান্য যাত্রার সাধারণ ঘটনাগুলো কারই বা মনে থাকে, ভুলে যেতে কতোই বা সময় লাগে। আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠলেও কিছু একটা লিখে স্মৃতিটা মাথা থেকে নামিয়ে ফেলাই উত্তম।</p>
<p>মাথাচাড়া দেয়ার কারণ ৩টি। প্রথমত, ডার্টি প্রিটি থিংস সিনেমাটা। দ্বিতীয়ত, বোলৎজানোতে ট্রেনে ওঠার আগে পুলিশ আমার পাসপোর্ট চেয়েছিল। ইউরোপে আসার পর এই প্রথম রাস্তায় কারও আমার পাসপোর্ট দেখতে চাওয়া। অস্ট্রিয়া আমি পাসপোর্ঠ ছাড়াই চলে যেতে নিয়েছিলাম, কারণ কোথাও তো পাসপোর্ট দেখাতে হয় না। কত বড় ভুল সিদ্ধান্ত হতো ভাবছিলাম তখন। আর মনে হচ্ছিল অবৈধ কারও কাছে কি এভাবে পাসপোর্ট চাওয়া হয় না? আমার কেন জানি একটা হরর অনুভূতি এটা নিয়ে, সব সময়, জানি না আর কতদিন এক দেশের নাগরিক আরেক দেশে গিয়ে হরর সিনেমার অনুভূতি পাবে, আর কত দিন পর পৃথিবী এক হবে, জন্ম হবে ইউনাইটেড আর্থ স্পেস এজেন্সির। তৃতীয়ত, বর্তমানে আমিও ইতালিতে অবৈধ। জার্মান এম্বেসি কেন এটা করল তা আমার মাথায় নেই। আর ইতালীয় প্রশাসন ফেস করার মত দুর্বুদ্ধি আমার কখনোই ছিল না। আমার ইতালির ভিসার মেয়াদ শেষ হল আজকে, কিন্তু জার্মান ভিসা শুরু হচ্ছে সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখ থেকে। ২৩ দিনের জন্য কোন ভিসা নেই। ভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন অফিসকে জানিয়ে লাভ হয়নি কোন, সবাই দায়িত্ব এড়াতে চায়। জার্মান এম্বেসিকে অনেক বলেও লাভ হয়নি। রাষ্ট্র, পররাষ্ট্র আর মন্ত্রণালয়-সচিবালয়ের এসব ধাক্কা থেকে যে মানুষ কবে মুক্তি পাবে সেই অর্থহীন ও গুরুত্বহীন চিন্তাও আমি করে যাই সবসময়।</p>
<p>অবৈধ অভিবাসীদের জন্য তাও ইতালি কিছুটা সুবিধাজনক। প্রশাসনিক অবস্থার বেহাল দশা এবং নিজেদের প্রয়োজনে এখানে কেউই কিছুতে মাথা ঘামায় না। অনেককে দেখেছি ফ্রান্সে যাওয়ার জন্য প্রথমে ইতালিতে আসে। জানি না কেন, প্রথমে ইতালির ভিসা নিয়ে ইতালিতে আসে কারণ বোধহয় এই ভিসা পাওয়া সহজ। ইতালির ভিসা থাকলে যেহেতু ইউরোপের সব দেশেই যাওয়া যায় তাই সেই তেরমিনি থেকে ট্রেনে সোজা চলে যায় প্যারিসে। ফ্রান্সে আবার রাজনৈতিক আশ্রয়ের সুযোগ অবারিত, তাই প্যারিস গিয়ে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। প্যারিসের রাজনৈতিক আশ্রয় বলি আর রোমের অবৈধ আশ্রয়ই বলি সবই যে অক্সিডেন্টাল অর্থনীতির ফাঁক এবং এই ফাঁক সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা তো দূরের কথা এটা নিয়ে যে তারা মানবিকভাবে ভাবতেও চায় না সে নিশ্চিত।</p>
<p>আমিও যতই চেঁচাই ইউরোপিয়ান অর্থনীতির এই ককসাকিং প্রজন্ম কি বিলুপ্ত হবে? আমি সবসময়ই কেবল সিনেমার গোবেচারা দর্শকের মত স্টিফেন ফ্রিয়ার্সের সাথে একমত পোষণ করব: প্রতিটি অর্থনীতির যে ফাটল থাকে সেই ফাটলের মধ্য দিয়ে উঁকি দিলে পরে মানবতার প্রকৃত রূপ বেরিয়ে আসে। মডার্ন আর্কিটেকচারের মিনিমালিস্ট ভবনেও এই মানবতার ঠাঁই হয়নি এখনও, প্রকৃত মানবতা মহাশূন্যের মহা অনর্থের মাঝে যেখানে দালান-কোঠা নেই কোন।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/981/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/981/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/981/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/981/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/981/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/981/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/981/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/981/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/981/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/981/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/981/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/981/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/981/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/981/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=981&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/13/travelling-through-brenner-pass/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>এযাবৎ আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ ছায়াপথ স্তবক &#8216;এল গোর্দো&#8217;</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/12/galaxy-cluster-el-gordo/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/12/galaxy-cluster-el-gordo/#comments</comments>
		<pubDate>Thu, 12 Jan 2012 22:58:06 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[Uncategorized]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=967</guid>
		<description><![CDATA[গত ৮ই জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে শুরু হয়েছে অ্যামেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি-র ২১৯তম সভা। এই সোসাইটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী জ্যোতির্বিজ্ঞান সংগঠনগুলোর একটি বলা যায়। জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষণা শেষ করার পর পোস্ট-ডক্টরেট চাকরির জন্য সবাইকে এই সোসাইটির অনলাইন জব পোর্টালেই &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/12/galaxy-cluster-el-gordo/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=967&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>গত ৮ই জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিনে শুরু হয়েছে <a href="http://aas.org/meetings/aas219">অ্যামেরিকান অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি-র ২১৯তম সভা</a>। এই সোসাইটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রভাবশালী জ্যোতির্বিজ্ঞান সংগঠনগুলোর একটি বলা যায়। জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি গবেষণা শেষ করার পর পোস্ট-ডক্টরেট চাকরির জন্য সবাইকে এই সোসাইটির অনলাইন জব পোর্টালেই ধর্ণা দিতে দেখা যায়। তাদের সভাগুলোতে প্রতি বছর যেসব গবেষণার খবর প্রকাশ করা হয় সেগুলোও তাই যথারীতি খুব প্রভাবশালী। এবারের সভায় ইতিমধ্যেই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর প্রকাশিত হয়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণের মানদণ্ড হিসেবে আমি নিয়েছি বিবিসি-কে। বিবিসি এখন পর্যন্ত এই সভার দুটো খবর প্রকাশ করেছে, একটি <a href="http://www.bbc.co.uk/news/science-environment-16477774">তমোবস্তু নিয়ে</a> আরেকটি এযাবৎ আবিষ্কৃত <a href="http://www.bbc.co.uk/news/science-environment-16493790">সর্ববৃহৎ ছায়াপথ স্তবক</a> নিয়ে।</p>
<p><img alt="" src="http://news.bbcimg.co.uk/media/images/57809000/jpg/_57809777_2012jan_aaspress.jpg" class="alignright" width="304" height="304" />স্তবকটি এতোই বড় যে আবিষ্কারকরা রঙ্গ করে এর নাম দিয়েছেন &#8220;এল গোর্দো&#8221; (El Gordo), স্পেনীয় ভাষার শব্দ, অর্থ স্থূলকায়। স্পেনীয় ভাষা ব্যবহারের কারণ এটি আবিষ্কার করা হয়েছে চিলির আতাকামা মরুভূমিতে অবস্থিত একটি দুরবিন দিয়ে যার নাম &#8220;আতাকামা কসমোলজি টেলিস্কোপ&#8221; (আতাকামা বিশ্বতত্ত্ব দুরবিন &#8211; আবিদু)। আর চিলির জাতীয় ভাষা যে স্পেনীয় তা কে না জানে। আবিষ্কারের কাহিনীতে যাওয়ার আগে ছায়াপথ স্তবক কি জিনিস তাই একটু জেনে নেয়া যাক।<br />
<span id="more-967"></span><br />
এক কথায় ছায়াপথ স্তবকের মহিমা বর্ণনা করতে গেলে বলতে হয়, এটি মহাবিশ্বের সর্ববৃহৎ আবদ্ধ কাঠামো, মহাকর্ষ বলের সবচেয়ে বড় ভেল্কি। প্রায় দশ হাজার কোটি তারা এবং বিপুল পরিমাণ গ্যাস নিয়ে গঠিত হয় এক একটি ছায়াপথ। এই ছায়াপথগুলোও আবার একে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে দুষ্টু মহাকর্ষ বলের কারণে। যে কারণে অধিকাংশ ছায়াপথকেই কোন না কোন পুঞ্জ বা স্তবকে যোগ দিতে দেখা যায়। ছায়াপথ পুঞ্জ (গ্যালাক্সি গ্রুপ) গঠিত হয় ১০০-রও কম ছায়াপথ দিয়ে। যেমন আমাদের আকাশগঙ্গা স্থানীয় পুঞ্জ (লোকাল গ্রুপ) নামে একটি পুঞ্জের প্রথম শ্রেণীর সদস্য। প্রথম শ্রেণীর বললাম কারণ ধ্রুবমাতার (অ্যান্ড্রোমিডা) পরেই এই পুঞ্জের সবচেয়ে বড় সদস্য সে, যেখানে মোট সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৫৪।</p>
<p>কিন্তু ছায়াপথ স্তবক সে তুলনায় অনেক বড়। একেকটি স্তবকে কম করে হলেও হাজারখানা ছায়াপথ থাকে, সর্বোচ্চ কয়েক হাজারও থাকতে পারে। স্তবকের ছায়াপথগুলো একে অন্যের অপেক্ষাকৃত কাছাকাছি থাকে। তবে পুঞ্জ থেকে স্তবককে আলাদা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে রঞ্জন রশ্মি (এক্স-রে)। পুঞ্জ এবং স্তবক উভয় কাঠামোতেই ছায়াপথগুলোর মাঝে বিস্তর স্থান থাকে যা অবশ্যই একেবারে শূন্য নয়। এই স্থানকে বলে আন্তশ্ছায়াপথীয় মাধ্যম (আছাম)। আছাম-এর মূল গাঠনিক উপাদান আয়নিত হাইড্রোজেন, অর্থাৎ মুক্ত প্রোটন আর ইলেকট্রন। স্তবকের ক্ষেত্রে এই মাধ্যমের ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা অনেক বেশি, যে কারণে তাপীয় ব্রেমস্ট্রালুং নামে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় তারা রঞ্জন রশ্মি নিঃসরণ করে।</p>
<p>ব্রেমস্ট্রালুং প্রক্রিয়াটাও বেশ মজার। আগেই বলেছি পুরো মাধ্যম আয়নিত, ছায়াপথগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে মুক্ত প্রোটন এবং ইলেকট্রনের অবাধ রাজত্ব থাকার কথা। কিন্তু ঝামেলা হচ্ছে রাজত্বটি অতো বাঁধামুক্ত নয়। ইলেকট্রন মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ানোর সময় মাঝেমাঝে কোন এক প্রোটনের কাছে চলে আসে। আর তখনই দেখা দেয় বিপত্তি। প্রোটন ধনাত্মক আধান বহন করে বলে ঋণাত্মক ইলেকট্রনকে একটু আকর্ষণ করে। এতে করে ইলেকট্রনের গতি কমে যায় এবং তার গতিপথও একটু বেঁকে যায়। বাঁক ঘোরানোর আগে যেমন গাড়ি একটু ব্রেইক করে নিতে ঠিক তেমনি, ইলেকট্রন হঠাৎ করে একটু মন্দিত হয়ে বাঁক ঘুরে। মন্দন ঘটার ফলে ইলেকট্রনের শক্তি কমে যায়, কারণ গতি কম মানেই শক্তি কম। যতটুকু শক্তি কমল ততটুকুই সে বিকিরণ করে। এখান থেকেই ব্রেমস্ট্রালুং নামটি এসেছে। জার্মান ভাষায় ব্রেমজেন শব্দের অর্থ ব্রেক কষা আর স্ট্রালুং অর্থ বিকিরণ। ব্রেমজেন এর ফলে যে স্ট্রালুং এর জন্ম হয় তারই নাম ব্রেমস্ট্রালুং। ছায়াপথ স্তবকে ইলেকট্রনের শক্তি অনেক বেশি থাকায় নিসৃত এই বিকিরণগুলো হয় রঞ্জন রশ্মি। এই রশ্মি সনাক্ত করার জন্য মহাকাশে বিশেষ ধরণের দুরবিন বসানো আছে। ওদিকে পুঞ্জের আছামে আয়নিত হাইড্রোজেনের ঘনত্ব ও তাপমাত্রা এত কম যে তারা সচরাচর রঞ্জন রশ্মি নিঃসরণ করে না।</p>
<p>অবশ্য এল গোর্দো আবিষ্কারের কাহিনী বলতে গেলে স্তবক আবিষ্কারের আরও একটি পদ্ধতি সম্পর্কে বলতে হবে যার নাম সানিয়েভ-জেলদোভিচ ক্রিয়া। রুশ জ্যোতির্বিদ রাশিদ সানিয়েভ এবং ইয়াকভ বরিসোভিচ জেলদোভিচ আবিষ্কার করেছিলেন বলেই তাদের সম্মানে নামটি রাখা হয়েছে। ঘটনাটি বেশ সহজ-সরল। আমরা জানি, মহা বিস্ফোরণের ৩ লক্ষ বছর পর মহাবিশ্বের সকল ইলেকট্রন ও প্রোটন একত্রিত হয়ে নিরপেক্ষ পরমাণু গঠন করে, যার ফলে ফোটনগুলো বাঁধাহীনভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়। সেই ফোটনগুলোকে বলে মহাজাগতিক অণুতরঙ্গ পটভূমি বিকিরণ (সংক্ষেপে নভোণুপট বা সিএমবি)। আজও সেই সময় থেকে ফোটনগুলো অবিরাম আমাদের দিকে আসছে। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের কারণে দিনদিন নভোণুপটের তাপমাত্রা এবং সেই সাথে শক্তি হ্রাস পায়। ৩০০০ কেলভিন থেকে কমতে কমতে বর্তমানে এই তাপমাত্রা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ কেলভিনে। তবে সানিয়েভ আর জেলদোভিচ দেখলেন বিশেষ কোন ক্ষেত্রে এদের শক্তি একটু বেড়েও যেতে পারে।</p>
<p>কারণটা এমন: ছায়াপথ স্তবকের আছামের আরেক নাম দেয়া যায় অন্তঃস্তবকীয় মাধ্যম (অস্তমা)। অস্তমায় বিরাজমান উচ্চ শক্তির ইলেকট্রনের সাথে নভোণুপটের ফোটনগুলো ধাক্কা খেলে এক মজার ব্যাপার ঘটে। অভিসারী ইলেকট্রন তার শক্তির কিছুটা ফোটনকে দিয়ে দেয়, অন্যভাবে বলা যায় ফোটন ইলেকট্রনের কাছ থেকে কিছুটা শক্তি ছিনিয়ে নেয়- ভালবাসা বা সহিংসতা যার যেটা পছন্দ সে সেটাই ভেবে নিতে পারেন। নভোণুপট অনেক দূর থেকে পৃথিবীতে আসার পথে কোন ছায়াপথ স্তবকের মুখোমুখি হলেই এমনটি ঘটে। স্বাভাবিকের তুলনায় তার শক্তি কতোটা বেড়েছে সেটা জানতে পারলেই ছায়াপথ স্তবকটিতে ইলেকট্রনের শক্তি আন্দাজ করা যায়। এভাবে নতুন নতুন স্তবক আবিষ্কারও করা সম্ভব।</p>
<p>আবিদু দিয়ে এভাবেই এল গোর্দো খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এক পদ্ধতি দিয়ে সনাক্ত করে স্তবক সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। এজন্য বিজ্ঞানীরা আরও কয়েকটি দুরবিনের মাধ্যমে একেক তরঙ্গদৈর্ঘ্যে স্তবকটি পর্যবেক্ষণ করেন। যথারীতি সানিয়েভ-জেলদোভিচ দিয়ে আবিষ্কার করার পর এল গোর্দোকেও বিভিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে:</p>
<p>ACT দিয়ে আবিষ্কার করা হয়েছে বলে এর বৈজ্ঞানিক নাম ACT-CL J0102-4915. জে দিয়ে বোঝায় জুলিয়ান ইপক। ০১ ঘণ্টা ০২ মিনিট বিষুবাংশ এবং &#8211; ৪৯ ডিগ্রি ১৫ মিনিট বিষুবলম্ব।</p>
<p>ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ (ভিএলটি) দিয়ে বর্ণালীবীক্ষণের পর দেখা গেছে এর লোহিত সরণ ০.৮৭. লোহিত সরণ জানায় ছায়াপথটি কত বেগে আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। খুব সাধারণ একটি সমীকরণের মাধ্যমে আনুমানিক অপসরণ বেগ পাওয়া যেতে পারে। লোহিত সরণ z, অপসরণ বেগ v এবং আলোর বেগ c হলে লেখা যায়:</p>
<p><img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=v+%3D+cz+%3D+3%5Ctimes+10%5E8+%5Ctimes+0.87+%3D+2.61%5Ctimes+10%5E8+%5C+ms%5E%7B-1%7D+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='v = cz = 3&#92;times 10^8 &#92;times 0.87 = 2.61&#92;times 10^8 &#92; ms^{-1} ' title='v = cz = 3&#92;times 10^8 &#92;times 0.87 = 2.61&#92;times 10^8 &#92; ms^{-1} ' class='latex' /></p>
<p>অর্থাৎ স্তবকটি সেকেন্ডে প্রায় ২ লক্ষ ৬১ হাজার কিলোমিটার বেগে আমাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যে সময় থেকে স্তবকটির আলো আমাদের কাছে আসছে তখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল বর্তমানের প্রায় অর্ধেক। এ তো পাওয়া গেল স্তবকের অরীয় বেগ, অর্থাৎ আমাদের দৃষ্টিরেখা বরাবর পেছনের দিকে তার গতিবেগ। কিন্তু সব স্তবকের একটি অনিয়ত বেগও থাকে। নভোগোলকে ডান-বাম বা উপর-নিচে ছায়াপথটির যে বেগ সেটাও বর্ণালী থেকে নির্ণয় করা যায়। এল গোর্দোর অনিয়ত বেগ সেকেন্ডে মাত্র ১৩২১ কিলোমিটার। অরীয় বেগের সাথে তুলনা করলে এই বেগের আগে অবশ্যই মাত্র শব্দটি যোগ করতে হবে।</p>
<p>রঞ্জন রশ্মি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করলে স্তবকটির অন্তর্স্তবকীয় মাধ্যমের তাপমাত্রা নির্ণয় করা সম্ভব। পৃথিবীকে ঘূর্ণায়নমান নাসা-র চন্দ্র রঞ্জন রশ্মি মানমন্দিরের মাধ্যমে তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয়েছে বেশ সুচারুভাবে। এই তাপমাত্রার মান প্রায় ১৪.৫ কিলো ইলেকট্রন ভোল্ট। এই তাপমাত্রা খুব সহজে কেলভিনেও রূপান্তর করা যায়। ইলেকট্রন ভোল্টের মানটিকে বোলৎসমান ধ্রুবক দিয়ে ভাগ করলেই কেলভিনে মানটি চলে আসা। আরেকটি ছোটখাট অংক কষা যাক:</p>
<p><img src='http://s0.wp.com/latex.php?latex=14500+%5C+eV+%3D+%5Cfrac%7B14500%7D%7B8.6%5Ctimes+10%5E%7B-5%7D%7D+%5C+K+%3D+1.7%5Ctimes+10%5E8+%5C+K+&amp;bg=ffffff&amp;fg=333333&amp;s=0' alt='14500 &#92; eV = &#92;frac{14500}{8.6&#92;times 10^{-5}} &#92; K = 1.7&#92;times 10^8 &#92; K ' title='14500 &#92; eV = &#92;frac{14500}{8.6&#92;times 10^{-5}} &#92; K = 1.7&#92;times 10^8 &#92; K ' class='latex' /></p>
<p>এই মান খুবই বেশি। মনে রাখতে হবে সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা এর ১০ ভাগের মাত্র ১ ভাগ।</p>
<p>ছায়াপথ স্তবক বিশ্বতত্ত্বের অনেক গবেষণার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বস্তু এবং যত দূরের ছায়াপথ আবিষ্কার করা হবে ততোই বিশ্বতত্ত্বের নতুন নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হবে। বিভিন্ন সময়ের স্তবক আবিষ্কার করা গেলে তাদের বিবর্তন কিভাবে ঘটেছে তাও বোঝা যাবে। হাজার হোক এরা মহাবিশ্বের সর্ববৃহৎ কাঠামো এবং দুই স্তবকের একীভবন জগতের সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদনকারী ঘটনা।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/967/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/967/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/967/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/967/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/967/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/967/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/967/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/967/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/967/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/967/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/967/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/967/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/967/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/967/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=967&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/12/galaxy-cluster-el-gordo/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://news.bbcimg.co.uk/media/images/57809000/jpg/_57809777_2012jan_aaspress.jpg" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>গ্রহগুলো গোল কেন?</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/08/why-are-planets-round/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/08/why-are-planets-round/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 08 Jan 2012 12:27:42 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[প্রশ্নোত্তর]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=956</guid>
		<description><![CDATA[ছোট ছোট বস্তুর আকৃতি যেমন ইচ্ছা হতে পারে। যেমন একটি পাথরকে কেটে যেকোন রূপ দেয়া যায়। কিন্তু বড় বস্তুর ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য না। যেমন, একটি গ্রহকে কখনোই যেমন ইচ্ছা তেমন রূপ দেয়া যায় না। আমাদের সৌরজগতের সবগুলো গ্রহই একটি নির্দিষ্ট &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/08/why-are-planets-round/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=956&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>ছোট ছোট বস্তুর আকৃতি যেমন ইচ্ছা হতে পারে। যেমন একটি পাথরকে কেটে যেকোন রূপ দেয়া যায়। কিন্তু বড় বস্তুর ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য না। যেমন, একটি গ্রহকে কখনোই যেমন ইচ্ছা তেমন রূপ দেয়া যায় না। আমাদের সৌরজগতের সবগুলো গ্রহই একটি নির্দিষ্ট আকৃতির- তা হচ্ছে গোলক। এর কারণ মহাকর্ষ বলের বিশেষ ধর্ম।</p>
<p><img alt="" src="http://www.scientificamerican.com/media/inline/000D93E1-778C-1C72-9EB7809EC588F2D7_arch1.jpg" class="alignright" width="206" height="256" />নিউটনের মহাকর্ষ সূত্রের কথা ধরা যাক। সূত্রে বলা হয়েছিল, প্রতি বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে; এই আকর্ষণ বল বস্তু দুটির ভরের গুণফলের সমানুপাতিক এবং তাদের মধ্যকার দূরত্বের বর্গের ব্যস্তানুপাতিক। অর্থাৎ দূরত্ব যত বাড়ে তাদের মধ্যকার মহাকর্ষ বল তত কমে। প্রশ্ন হচ্ছে এই দূরত্ব কিভাবে পরিমাপ করা হয়। যেমন পৃথিবী এবং চাঁদের দূরত্ব কি হবে?- পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে চাঁদের পৃষ্ঠের দূরত্ব? মোটেই না। দূরত্ব পরিমাপ করা হয় সবসময় কেন্দ্র থেকে। অর্থাৎ পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে চাঁদের কেন্দ্রের দূরত্বই এখানে ধর্তব্য। ভাবখানা এমন যে, পৃথিবীর সকল ভর তার কেন্দ্রে ঘনীভূত আছে এবং সেই কেন্দ্রটিকে মহাকর্ষীয় বলের একটি উৎস হিসেবে বিবেচনা করে তা থেকে অন্য বস্তুর দূরত্ব মাপা হচ্ছে।</p>
<p>ব্যাপারটা আসলেই তাই। মহাকর্ষ বল সবসময় ভরকেন্দ্রে ঘনীভূত থাকে। কেবল পৃথিবী নয়, যেকোন বস্তুর মহাকর্ষ বল তার ভরকেন্দ্র থেকে উৎপন্ন হচ্ছে বলে মনে হয়। এই মহাকর্ষ বল বস্তুটির সকল অংশকে কেন্দ্রের দিকে সমানভাবে আকর্ষণ করে। যার ফলে, গোলকই হয়ে ওঠে সম্ভাব্য একমাত্র আকৃতি। কারণ একমাত্র গোলকের পৃষ্ঠেরই সকল বিন্দু কেন্দ্র থেকে সমান দূরত্বে থাকে।</p>
<p>এখন কথা হচ্ছে, গ্রহের সকল অংশের ভর তো একরকম নাও হতে পারে, সেক্ষেত্রে একেক অংশকে তো কেন্দ্র একেক বলে আকর্ষণ করবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। কারণ মহাকর্ষ বলের কাছে গ্রহটি তরল পদার্থের মত আচরণ করে। আমাদের ভূপৃষ্ঠের এই মাটি, পাথর আসলে মহাকর্ষের কাছে তরলসদৃশ। যে কারণে মাটি-পাথর এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরতে সরতে শেষ পর্যন্ত একটি গোলক গঠন করে। পদার্থবিজ্ঞানে এই গোলক গঠনের প্রক্রিয়াকে বলে সমস্থৈতিক সমন্বয় (isostatic adjustment)।</p>
<p>কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কোন গ্রহই আদর্শ গোলক না। যেমন পৃথিবীর পৃষ্ঠে আছে হিমালয়ের মত পর্বতমালা, বৃহস্পতির আছে অলিম্পাস মন্স। গ্রহের অভ্যন্তরে ঘটতে থাকে অনেক প্রক্রিয়া যেমন প্লেট টেকটোনিক, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি। এগুলো যখন মহাকর্ষ বলের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে যায় তখনই গোলকাকৃতি থেকে এমন ব্যতয় ঘটে। কিন্তু সে বজ্জাত গঠনটির ভর খুব বেশি হলে আবার মহাকর্ষ বলই বিজয়ী হয়। এজন্যই ভূপৃষ্ঠে ৫০ কিলোমিটার উঁচু কোন পাহাড় নেই, সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের উচ্চতা মাত্র ৮ কিমি। এই সমস্থৈতিক সমন্বয়ের কারণেই কিন্তু ২০০০ তলা কোন দালান নির্মাণ সম্ভব না, সেই দালান মহাকর্ষের চাপে ভূপতিত হবে, জয় হবে গোলকের।</p>
<p>গ্রহের গতির কারণেও আদর্শ গোলক থেকে বিচ্যুতি ঘটে। যেমন ২৪ ঘণ্টায় একবার নিজ অক্ষের চারদিকে আবর্তনের কারণে পৃথিবী উপর-নিচে একটু চ্যাপ্টা, কমলালেবুর মত। পৃথিবীর বিষুব অঞ্চলের ব্যাস, মেরু অঞ্চলের চেয়ে বেশি। তবে ব্যত্যয়টা খুব বেশি না। তবে বস্তুর ভর যদি অনেক কম হয়, তাহলে মহাকর্ষ বল এতই দুর্বল হয় যে সে আর আদর্শ গোলক গঠন করতে পারে না। যেমন মঙ্গল এবং বৃহস্পতি গ্রহের মাঝামাঝি অঞ্চলে থাকা অনেকগুলো গ্রহাণুর আকৃতি ঠিক আদর্শ গোলকের মতন নয়। কারণ তাদের গতিশক্তি ও ঘূর্ণন বল মহাকর্ষের চেয়ে প্রভাবশালী।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/956/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/956/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/956/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/956/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/956/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/956/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/956/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/956/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/956/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/956/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/956/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/956/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/956/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/956/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=956&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/08/why-are-planets-round/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://www.scientificamerican.com/media/inline/000D93E1-778C-1C72-9EB7809EC588F2D7_arch1.jpg" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>আফ্রিকান-মার্কিনিদের জিনে প্রাকৃতিক নির্বাচনের চিহ্ন</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/06/adaptation-in-early-african-americans/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/06/adaptation-in-early-african-americans/#comments</comments>
		<pubDate>Fri, 06 Jan 2012 20:45:00 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[মানব বিবর্তন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=949</guid>
		<description><![CDATA[আফ্রিকান-অ্যামেরিকানদের জিন আফ্রিকানদের তুলনায় বেশ কিছু দিক দিয়ে আলাদা। আমেরিকায় আসার পর ভিন্ন পরিবেশে অভিযোজন করতে গিয়েই এই জিনতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের উদ্ভব ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, আফ্রিকান-মার্কিনীদের মাঝে রোগ সৃষ্টিকারী কিছু জিনের পরিমাণ বেশি। কারণ, হয়ত এই জিনগুলো অন্য কিছু দিক দিয়ে &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/06/adaptation-in-early-african-americans/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=949&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>আফ্রিকান-অ্যামেরিকানদের জিন আফ্রিকানদের তুলনায় বেশ কিছু দিক দিয়ে আলাদা। আমেরিকায় আসার পর ভিন্ন পরিবেশে অভিযোজন করতে গিয়েই এই জিনতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের উদ্ভব ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, আফ্রিকান-মার্কিনীদের মাঝে রোগ সৃষ্টিকারী কিছু জিনের পরিমাণ বেশি। কারণ, হয়ত এই জিনগুলো অন্য কিছু দিক দিয়ে তাদের সুবিধা দিয়েছিল। একটি বড় পার্থক্য হচ্ছে আফ্রিকানদের তুলনায় আফ্রিকান-মার্কিনীদের দেহে সিকল সেল (কাস্তেকোষ) রক্তাল্পতা সৃষ্টিকারী জিনের পরিমাণ কম।</p>
<div class="wp-caption aligncenter" style="width: 610px"><a href="http://graphics8.nytimes.com/images/2012/01/03/science/03GENO/03GENO-popup.jpg"><img alt="" src="http://graphics8.nytimes.com/images/2012/01/03/science/03GENO/03GENO-popup.jpg" width="600" /></a><p class="wp-caption-text">১৮৬০ সালে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কৃতদাসরা। Credit: Kean Collection/Getty Images</p></div>
<p>বন্যা আহমেদ তার বিবর্তনের পথ ধরে বইয়ে উল্লেখ করেছিলেন, আফ্রিকার যে অঞ্চলে ম্যালেরিয়া রোগের প্রকোপ বেশি সে অঞ্চলেরই অপেক্ষাকৃত বেশি মানুষের দেহে কাস্তেকোষ হিমোগ্লোবিন সৃষ্টিকারী সক্রিয় জিনের উপস্থিতি আছে। কারণ এই জিন আবার ম্যালেরিয়া রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। এজন্য দেখা যায় আফ্রিকার কোন কোন অঞ্চলের শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ মানুষের দেহে এই রোগ রয়েছে। এখন বিজ্ঞানীরা দেখলেন, অপেক্ষাকৃত কম আফ্রিকান-মার্কিনীদের দেহে এই জিন আছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ নেই।</p>
<p>সম্প্রতি <a href="http://www.nytimes.com/2012/01/03/science/genome-research-points-to-adaptation-among-early-african-americans.html?partner=rss&amp;emc=rss">নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি খবরে</a> এই ফলাফল প্রকাশিত হল। খবরে বলা হয়েছে, শাংহাইয়ের একদল গবেষকদের মতে আফ্রিকান-মার্কিনীদের মাঝে এই জিন প্রকরণ ঘটার কারণ ডারউইন প্রস্তাবিত প্রাকৃতিক নির্বাচন। অবশ্য কয়েকজন মার্কিন গবেষক ঠিক নিশ্চিত নন প্রাকৃতিক নির্বাচন ঘটার উপযোগী নির্বাচনী চাপ এবং সময় আফ্রিকান-মার্কিনীরা পেয়েছে কিনা।</p>
<p>তাদের প্রক্রিয়া ছিল বেশ পুরাতন। প্রথমে আফ্রিকান-মার্কিনীদের জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখেছেন সকল জিনের প্রায় ২২ শতাংশ এসেছে ইউরোপীয় পূর্বপুরুষদের থেকে আর বাকিগুলো আফ্রিকান পূর্বপুরুষ থেকে। ইউরোপীয় উৎসের একটি জিন পাওয়া গেছে যা ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। রোগপ্রতিরোধের নির্বাচনী চাপই যে এর জন্মের কারণ তা মোটামোটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়।</p>
<p>ওদিকে আফ্রিকান-মার্কিনীদের এই জিনোমের সাথে নাইজেরিয়ার একটি অঞ্চলের মানুষের জিনোম মেলানো হয়েছে। উল্লেখ্য নাইজেরিয়ার এই জিনোম সমগ্র পশ্চিম আফ্রিকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। এরপর তারা হিসাব করার চেষ্টা করেছেন, আফ্রিকান উৎসের জিনগুলো আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় আসার পর কিভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। স্বভাবতই দেখা গেছে কিছু জিন প্রকরণের পরিমাণ কমেছে আর কিছুর বেড়েছে। যেগুলো কমেছে তার অধিকাংশই ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের সাথে সম্পর্কিত।</p>
<p>তবে মাত্র ৩০০ বছরের মধ্যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে বিবর্তন ঘটতে পারে নাকি সে নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন অনেকেই। উল্লেখ্য মধ্য এবং পশ্চিম আফ্রিকাতেই কাস্তেকোষ হিমোগ্লোবিন সৃষ্টিকারী জিনের পৌনঃপুন্য বেশি দেখা যায়। সে হিসেবে হয়ত গবেষকরা আফ্রিকান-মার্কিনী জনগোষ্ঠীর সাথে আফ্রিকার এমন একটি অংশের তুলনা করেছেন যাদের মাঝে কাস্তেকোষ হিমোগ্লোবিন সৃষ্টিকারী জিন প্রকরণের পৌনঃপুন্য বেশি। কিন্তু হয়ত, এই আফ্রিকান-মার্কিনীদের পূর্বপুরুষরা আফ্রিকার এমন একটি অঞ্চল থেকে এসেছিল যেখানে এমনিতেই এই জিনের পৌনঃপুন্য কম ছিল।</p>
<p>যাই সত্য হোক, অপেক্ষাকৃত কম সময়ে প্রাকৃতিক নির্বাচনের কার্যকারিতা বুঝতে এই গবেষণা খুব কাজে দেবে এ নিয়ে সন্দেহ নেই। শাংহাইয়ের এই গবেষক দল মিশ্রণজাত জিন নিয়ে গবেষণা করতে খুব আগ্রহী। জিন বিশ্লেষণ করে তারা প্রথমেই বের করেন কোনটি কোন পূর্বপুরুষ থেকে এসেছে। তারপর যে জিনটি যে পূর্বপুরুষের পরিচয় বহন করে তার সাথে সেই জনগোষ্ঠীর বর্তমান বংশধরদের জিনের তুলনা করা হয়। এতেই আকর্ষণীয় সব জীববৈজ্ঞানিক ফলাফল বেরিয়ে আসে।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/949/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/949/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/949/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/949/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/949/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/949/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/949/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/949/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/949/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/949/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/949/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/949/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/949/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/949/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=949&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/06/adaptation-in-early-african-americans/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://graphics8.nytimes.com/images/2012/01/03/science/03GENO/03GENO-popup.jpg" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>চাঁদের নতুন সঙ্গী: গ্রেইল ভগিনীদ্বয়</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/03/gravity-recovery-and-interior-laboratory/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/03/gravity-recovery-and-interior-laboratory/#comments</comments>
		<pubDate>Tue, 03 Jan 2012 15:06:58 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[গ্রহবিজ্ঞান]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=916</guid>
		<description><![CDATA[২০১১-র শেষ এবং ২০১২-র প্রথম দিনে নাসা পরপর দুটি নভোযান উৎক্ষেপণ করেছে, দুটোই চাঁদের উদ্দেশ্য এবং একদিন পর উৎক্ষেপণ করলেও দ্বিতীয়টি গিয়ে প্রথমটির পাশে অবস্থান নেবে। এদের কাজ হল চাঁদের মহাকর্ষীয় বলের পরিপূর্ণ মানচিত্র তৈরি করা। মহাকর্ষীয় মানচিত্র তৈরির একটি &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/03/gravity-recovery-and-interior-laboratory/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=916&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>২০১১-র শেষ এবং ২০১২-র প্রথম দিনে নাসা <a href="http://www.bbc.co.uk/news/science-environment-16353839">পরপর দুটি নভোযান উৎক্ষেপণ করেছে</a>, দুটোই চাঁদের উদ্দেশ্য এবং একদিন পর উৎক্ষেপণ করলেও দ্বিতীয়টি গিয়ে প্রথমটির পাশে অবস্থান নেবে। এদের কাজ হল চাঁদের মহাকর্ষীয় বলের পরিপূর্ণ মানচিত্র তৈরি করা। মহাকর্ষীয় মানচিত্র তৈরির একটি জনপ্রিয় পদ্ধতিতে কাজ করবে নভোযান দুটি, দুয়ে মিলে যে নভো-গবেষণাগারটি তৈরি করবে তার নাম দেয়া হয়েছে <a href="http://www.nasa.gov/mission_pages/grail/main/index.html">GRAIL</a> (Gravity Recovery and Interior Laboratory). এর সাথে অনেক আগে উৎক্ষেপিত একটি ভূ-প্রদক্ষিণরত নভোযানের নামের খুব মিল দেখা যাচ্ছে।</p>
<p><img src="http://news.bbcimg.co.uk/media/images/55212000/jpg/_55212170_55212169.jpg" alt="" /></p>
<p>পৃথিবীর সেই উপগ্রহটির নাম <a href="http://www.csr.utexas.edu/grace/">GRACE</a> (Gravity Recovery and Climate Experiment). গ্রেইস এবং গ্রেইলের কার্যপদ্ধতি প্রায় একই রকম। চাঁদের মহাকর্ষ বলের কারণেই গ্রেইল তার চারপাশে আবর্তন করতে পারছে। কিন্তু এই মহাকর্ষ বল সুষম নয়। চাঁদের অভ্যন্তরীন গঠন এবং চন্দ্রপৃষ্ঠে বিভিন্ন সাগর, উপত্যকা আর টিলার জন্য একেক স্থানে মহাকর্ষ বলের প্রাবল্য একেক রকম। এজন্য দেখা যাবে নভোযান দুটির একেকটির উপর চাঁদের মহাকর্ষ টান একেক রকম। যেখানে মহাকর্ষ বল একটু বেশি সেখানে নভোযানটি চাঁদের বেশি কাছে চলে আসবে আর যেখানে কম সেখানে প্রকৃত অবস্থানেই থাকবে।</p>
<p>দুটো নভোযান একটি আরেকটির সাথে একেবারে সিংক করা, অর্থাৎ একে অপরের সব খবরাখবর রাখে। তাদের এমন একটি যন্ত্র আছে যা দিয়ে নভোযান দুটির স্থানচ্যুতির পরিমাণ নির্ণয় করা যাবে। আর একটি নভোযান আরেকটির সাপেক্ষে কতোটা উপরে বা নিচের দিকে ঝুঁকে পড়ছে তার পরিমাণই বলে দিবে মহাকর্ষ বলের মান। এভাবে চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে শুরু করে, ম্যান্টল এমনকি চাঁদের কেন্দ্রভাগের ঘনত্বও বের করে ফেলা সম্ভব। ঘনত্বের মাধ্যমে পরবর্তীতে তাদের গাঠনিক উপাদান সম্পর্কেও ধারণা লাভ সম্ভব।</p>
<p>গ্র্যাভিটি রিকাভারি অ্যান্ড ইন্টেরিয়র ল্যাবরেটরি চাঁদকে সফলভাবে আবর্তন শুরু করেছে, সব যন্ত্রপাতিও ঠিকমতো কাজ করছে। নায়কোচিত অভিযান নয় বরং বিজ্ঞান দিয়ে চন্দ্রজয়ের এই উদ্যোগক সাধুবাদ&#8230;</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/916/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/916/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/916/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/916/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/916/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/916/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/916/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/916/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/916/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/916/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/916/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/916/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/916/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/916/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=916&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/03/gravity-recovery-and-interior-laboratory/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>1</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://news.bbcimg.co.uk/media/images/55212000/jpg/_55212170_55212169.jpg" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>নিষ্পাদনী পরিচয়</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/01/performing-identity/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/01/performing-identity/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 01 Jan 2012 19:52:57 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[নৃবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[এলেন বল]]></category>
		<category><![CDATA[জে পি মিলস]]></category>
		<category><![CDATA[পার্বত্য চট্টগ্রাম]]></category>
		<category><![CDATA[বাংলাদেশের আদিবাসী]]></category>
		<category><![CDATA[রাঙামাটিতে অগ্নিসংযোগ]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=760</guid>
		<description><![CDATA[জার্মানির গ্যটিঙেন বাস্তবিক অর্থেই একটি বহুজাতিক উপশহর। একটি বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই শহর, বলা যায় শহরের অধিকাংশ অধিবাসী হয় শিক্ষার্থী নয় শিক্ষক। পৃথিবীর অন্য কোন শহরের কেন্দ্রভাগে এত ছাত্র থাকে কিনা সন্দেহ আছে। জার্মানির নিডারজাখসেন প্রদেশের এই ছোট্ট শহরটিতে &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/01/performing-identity/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=760&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>জার্মানির গ্যটিঙেন বাস্তবিক অর্থেই একটি বহুজাতিক উপশহর। একটি বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরেই গড়ে উঠেছে এই শহর, বলা যায় শহরের অধিকাংশ অধিবাসী হয় শিক্ষার্থী নয় শিক্ষক। পৃথিবীর অন্য কোন শহরের কেন্দ্রভাগে এত ছাত্র থাকে কিনা সন্দেহ আছে। জার্মানির নিডারজাখসেন প্রদেশের এই ছোট্ট শহরটিতে হয় না এমন কিছু নেই। পৃথিবীর খুব কম দেশই বোধহয় আছে যেদেশের কোন না কোন শিক্ষার্থী নেই এখানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডগুলোও সেদিক থেকে বেশ আন্তর্জাতিক ঢঙের। যেমন এখানে Modern Indian Studies নামে একটি গোটা বিভাগই রয়েছে। আধুনিক ভারতীয় শিক্ষা এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই ১৫ থেকে ১৭ই ডিসেম্বর পর্যন্ত এখানে হয়ে গেল নৃবিজ্ঞানের একটি কর্মশালা যার শিরোনাম ছিল, &#8220;Performing Identity: Ethnicity and Ethno-Nationalism in the South-East Asia Borderland region of North-East India&#8221; যার বাংলা করলে দাঁড়ায় &#8220;নিষ্পাদনী পরিচয়: উত্তর-পূর্ব ভারতের দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় সীমান্ত অঞ্চলে নৃগোষ্ঠী এবং নৃ-জাতীয়তা&#8221;।</p>
<p>কর্মশালার মূল উদ্যোক্তা আসামের মিনাক্ষী বরকতকি, যিনি এক সময় অক্সফোর্ডে গণিতের উপর পড়াশোনা করলেও মধ্য বয়সে এখন সব ছেড়েছুড়ে গোটিঙেনে নৃবিজ্ঞানে পিএইচডি শুরু করেছেন। একজন পিএইচডি শিক্ষার্থীর উদ্যোগে এত উঁচু মানের একটি কর্মশালা পরিচালনা সত্যিই বিস্ময়কর। গ্যটিঙেনে আমার জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান প্রোগ্রামে আসামের একজন আছে যার সুবাদেই কর্মশালায় একদিনের জন্য যেতে পারলাম। আমার যাওয়ার মূল কারণ ছিল চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল বিষয়ক আলোচনা শোনা এবং সম্ভব হলে অংশ নেয়া। ১৭ই ডিসেম্বর সাড়ে এগারটা থেকে ১টা পর্যন্ত পুরো সময়ই বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনা। আরও বড় প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ শাসনামলে সিলেট এবং আসাম-মেঘালয় অঞ্চলের অবিচ্ছিন্ন ইতিহাস নিয়েও কিছু আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। ব্রোশারে দেখলাম &#8220;Northeast and Beyond&#8221; প্যানেলে মোট আলোচনা হবে তিনটি:</p>
<p>১। Performing Anthropological Identity: J. P. Mills and the Chittagong Hill Tracts &#8211; Wolfgang Mey<br />
২। Climate, Commerce and Bureaucracy: Founding Colonial Rule in Northern East Bengal &#8211; Gunnel Cederlöf<br />
৩। &#8220;They are Taking our Land&#8221;: A Comparative Perspective on Indigeneity and Alterity in Meghalaya and the Chittagong Hill Tracts &#8211; Ellen Bal &amp; Eva Gerharz<br />
<span id="more-760"></span><br />
<strong>জে পি মিলস ও চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকা<br />
- ভোলফগাং মেই</strong></p>
<p>প্রথমে শুরু করলেন ভোলফগাং মেই, হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের। এই বক্তৃতার আগে আসলে আমি জে পি মিলসের নামও জানতাম না। ২০ মিনিটের এই বক্তৃতার বিষয়বস্তু ছিল চট্টগ্রাম পার্বত্য এলাকায় মিলসের কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তীতে তার তোলা ছবি, তার ব্যক্তিগত ডায়রি ও নৃতাত্ত্বিক সংগ্রহগুলো সংরক্ষণের চেষ্টা। এই সবকিছুই প্রথমে লন্ডনে সংরক্ষিত ছিল। মেই যখন এ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন তখন লন্ডনে গিয়ে মিলসের সব সংগ্রহ পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোর একটি কপি তৈরি করেন। এর কয়েক বছর পর আবার লন্ডনে গিয়ে দেখেন কোন এক অদ্ভূত কারণে অনেকগুলো সংগ্রহই হারিয়ে গেছে। এই শঙ্কা থেকেই তিনি পরবর্তীতে মিলসের সকল রচনা এবং ছবি একসাথে করে একটি বই রচনার কাজে হাত দেন। সেই গবেষণাধর্মী বইয়ের প্রকাশনা বিষয়েই তিনি কথা বলেছেন এই কর্মশালায়। ৪২১ পৃষ্ঠার বইটি প্রিন্ট আকারে প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। কিন্তু কর্মশালা শেষে ভোলফগাং এর সাথে কথা বলে জানলাম হাইডেলবার্গের ওয়েবসাইটে এর সফট কপি বিনামূল্যেই দেয়া আছে। যে কেউ চাইলে <a href="http://archiv.ub.uni-heidelberg.de/savifadok/volltexte/2009/548/">এই লিংক থেকে</a> বইটি ডাউনলোড করে নিতে পারেন।</p>
<p>বাসায় ফিরে ডাউনলোড করে আসলেই অবাক। ফিলিপ মিলস বেশ আন্তরিকতার সাথেই ১৯২০ এর দশকে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে কাজ করেছিলেন, সে সময়কার তিন জন নেতার (চিফ) সচিত্র জীবনী লিখেছিলেন। আদিবাসীদের ব্যবহৃত অনেক বস্তু সংগ্রহ করেছিলেন। বইয়ের কিছু অংশ এখানে অনুবাদের চেষ্টা করছি:</p>
<p><em>ফিলিপ মিলস ১৮৯০ সালে ইংল্যান্ডের চেশায়ারে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা গ্রহণ করেন উইনচেস্টার কলেজ এবং অক্সফোর্ডের কর্পাস ক্রিস্টি কলেজে। ১৯১৩ সালে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে আসামের নাগা পর্বতের মোককচুং এ চলে আসেন যখন তার বয়স মাত্র ২৬ বছর। সেখানে কয়েক বছর সাব-ডিভিশনাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৩৩ সালে কোহিমার ডেপুটি কমিশনার এবং ১৯৪৩ সালে সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের আদিবাসী অঞ্চলের গভর্নর মনোনীত হন। ১৯৪৭ এ ভারতের স্বাধীনতার পর ৫৭ বছর বয়সী মিলসের শারীরিক অবস্থা বিশেষ ভাল ছিল না। আইসিএস থেকে অবসর গ্রহণ করে লন্ডনের স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিস এ প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৪ সালে অসুস্থতার জন্য সেখান থেকেও অবসর গ্রহণ করেন, মারা যান ১৯৬০ সালে।</p>
<p>বিংশ শতকের প্রথম দশকে চট্টগ্রামের প্রশাসনিক অবস্থা একটি ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। চিফদের অব্যবস্থা দেখে সরকার বাধ্য হয়ে ১৯২৫ সালে তাদের হাত থেকে চাষী জমির খাজনা আদায়ের ক্ষমতা কেড়ে নেয়। উপনিবেশ বিষয়ক গবেষণায় এ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। জে পি মিলসের চট্টগ্রাম গমনের উদ্দেশ্য ছিল চিফদের সাথে ইংরেজ প্রশাসনের সমঝোতা প্রতিষ্ঠা। ভবিষ্যৎ প্রশাসনে চিফদের ভূমিকা নির্ধারণের জন্য মিলস তাদের ইতিহাস, মর্যাদা, অধিকার এবং দায়িত্ব নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেন। তাদের কাজ যেহেতু তাদের পূর্বতন মর্যাদা এবং ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে সেহেতু মিলসই প্রথম এই পার্বত্য এলাকার সমাজগুলোর বিশেষ গোষ্ঠীগত ভিত্তি আবিষ্কার করেন। এসব আবিষ্কারের প্রেক্ষিতে তিনি বাংলার সরকারকে এমন কিছু নীতিমালা প্রণয়নের পরামর্শ দেন যার মাধ্যমে চিফদেরকে তাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে পার্বত্য প্রশাসনে একটি বিশেষ পদাধিকার দেয়া যাবে এবং একইসাথে ইংরেজ প্রশাসনের স্বার্থ অনুযায়ী জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে। পার্বত্য এলাকায় ২ মাস, চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রকাশনার খোঁজ খবর নেয়া এবং নাগা পর্বতের অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি এসব পরামর্শ দিয়েছিলেন।</em></p>
<p>মিলসের রচনা প্রথমে সংরক্ষিত ছিল স্কুল অফ আফ্রিকান অ্যান্ড ওরিয়েন্টাল স্টাডিস এবং অক্সফোর্ডের স্কুল অফ অ্যানথ্রোপলজি অ্যান্ড মিউজিয়াম অফ এখনোগ্রাফিতে। প্রথম স্কুলের পাণ্ডুলিপিকে ভোলফগাং মেই &#8220;লন্ডন পাণ্ডুলিপি&#8221; এবং দ্বিতীয় উৎসের গুলোকে &#8220;অক্সফোর্ড পাণ্ডুলিপি&#8221; হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কি কি আছে এসব পাণ্ডুলিপিতে তাই দেখে নেয়া যাক:</p>
<p>লন্ডন পাণ্ডুলিপি:<br />
# হাতে লেখা &#8220;Diary of a Tour&#8221;, চট্টগ্রামে ১৯২৬ সালের ১৮ই নভেম্বর থেকে ১৯২৭ সালের ১৩ই জানুয়ারি পর্যন্ত ভ্রমণের কাহিনী<br />
# টাইপ করা &#8220;Report on the Chiefs of the Chittagong Hill Tracts&#8221;<br />
# টাইপ করা &#8220;Proposal regarding the Chiefs&#8221; এবং একটি &#8220;Subtenant&#8217;s Lease&#8221; (উপপ্রজাস্বত্ত্বের ইজারা) এর অনুবাদ।<br />
# Suggested Agricultural Experiments<br />
# Specific Duties for Chiefs<br />
# Compulsory Labour<br />
# Specific Duties of Chiefs<br />
# Chakma Chief&#8217;s History<br />
# Education<br />
# Four word lists (Khyeng, Marma, Tippera-Mro, Mro-Khyeng)<br />
# ১০১টি ছবি</p>
<p>অক্সফোর্ড পাণ্ডুলিপি:<br />
# History of the Chittagong Hill Tracts<br />
# Proposals regarding the Chiefs<br />
# Translation of a Subtenant&#8217;s Lease of the Chakma Chief<br />
# Suggested Agricultural Experiments<br />
# Compulsory Labour<br />
# The Collection of the Jhum Tax<br />
# History of the family of the Bohmong</p>
<p>এই ১০১টি ছবির মধ্যে কিছু তুলে ধরছি:</p>
<div id="attachment_794" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/undrimahachari.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/undrimahachari.png?w=300" alt="" title="undrimahachari" width="300" /></a><p class="wp-caption-text">মা এবং শিশু, জে পি মিলস, উন্দ্রিমাছড়ি থেকে</p></div>
<div id="attachment_795" class="wp-caption aligncenter" style="width: 310px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/mro-headman-and-wife.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/mro-headman-and-wife.png?w=300" alt="" title="mro headman and wife" width="300" /></a><p class="wp-caption-text">একজন ম্রো হেডম্যান ও তার স্ত্রী। (জে পি মিলস)</p></div>
<div id="attachment_796" class="wp-caption aligncenter" style="width: 510px"><a href="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/rangamati.png"><img src="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/rangamati.png?w=500" alt="" title="rangamati" width="500" /></a><p class="wp-caption-text">১৯২৬ সালের রাঙামাটি</p></div>
<p>জে পি মিলসের ডায়রিটি পড়তে শুরু করে দ্বিতীয় দিনের লেখাতেই বেশ উৎসাহ পেলাম। ১৯২৬ সালের ১৯শে নভেম্বর তার ডায়রিতে লেখা:<br />
<em>রাঙামাটি: চাকমা চিফ+দেওয়ান আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল। চিফ আসামের চিফদের কি কি সুবিধা দেয়া হয় তাই নিয়ে জেরা করতে শুরু করল। তার পোশাক বাঙালিদের মত আর মাথায় সুবিধা আদায়ের চিন্তা। সে আমাকে তার বাবার অর্জিত স্বর্ণের ঘড়ি দেখাল, তার বাবাকে আমি যদ্দূর মনে করি রাজা নয় বরং রায় বাহাদুর ডাকা হতো। আমি তাকে জুম চাষে উন্নতির কথা বলতে চাইলে সে এক বিন্দু উৎসাহও দেখাল না। চাকমাদের নির্বিচারে বাঙালিত্ব গ্রহণের বিরোধিতা করলে সে বলল, বাঙালি সংস্কৃতি চাকমাদের চেয়ে অনেক উন্নত। আমি বোঝাতে চাইলাম, বাঙালি সংস্কৃতিতে একজন চাকমা চিফের কোন স্থান থাকবে না, কিন্তু মনে হল তার জীবদ্দশায় সে চিফ থাকতে পারলেই খুশী, এরপর কি হবে তা নিয়ে মাথা ঘামায় না।</em></p>
<p><strong>জলবায়ু, বাণিজ্য ও আমলাতন্ত্র: উত্তর-পূর্ব বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসনের পত্তন<br />
- গুনেল চেডেরলফ</strong></p>
<p>গুনেল নাকি এই নামে একটি বই লিখছেন। কর্মশালায় বইটিই পরিচয় করিয়ে দিলেন সবার কাছে। ভূমিকা থেকে কিছু অংশ পড়লেন, বুঝিয়ে দিলেন বইটির সারবত্তা। তার বর্ণনার সুবিধার্থে বাংলাদেশের সীমান্ত ভুলে যাওয়া দরকার ছিল। কারণ উনবিংশ শতকে সিলেটকে কেন্দ্র করে আসাম ও মেঘালয়ে ঔপনিবেশিক শাসনের বিস্তৃতির সময় নিশ্চয়ি কেউ ভাবতে পারেনি বাংলাদেশ নামে একটি আলাদা দেশের জন্ম হবে। তার প্রথম যে কথাটি মন কাড়ল তা মানচিত্র বিষয়ে। উনবিংশ শতকে রাণীর আদেশে ইংরেজ ভূতাত্ত্বিকদের করা একটি মানচিত্র দেখিয়ে বললেন, মনে রাখতে হবে বাস্তবে কি আছে সেটি মানচিত্র নয় বরং বাস্তবতাকে শাসনকর্তারা কিভাবে দেখতে চান মানচিত্রে তাই ফুটে উঠে।</p>
<p>সত্যিই তাই। ব্রিটিশদের মানচিত্রগুলো নাকি অবিচ্ছিন্ন ছিল না। যে অঞ্চলে তারা প্রভাব বিস্তার করতে চাইতো সেগুলো স্পষ্ট দেখানো থাকতো আর থাকতো সেখানে পৌঁছানোর উপায়। মানচিত্র যেন ছিল এক ধরণের দিক নির্দেশনা। গুনেল এমন একটি মানচিত্র দেখালেন যা পশ্চিমে কলকাতা থেকে শুরু করে পূর্বে একেবারে মেঘালয় পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া সীমান্তে গিয়ে ঠেকেছে, উত্তরে হিমালয়-তিব্বত থেকে শুরু করে দক্ষিণে দেখা যাচ্ছে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। সবচেয়ে লক্ষ্যণীয় ছিল, মানচিত্রের একেবারে কেন্দ্রে মেঘালয়। রাজ্য হিসেবে মেঘালয়ের গুরুত্ব ইংরেজদের কাছে কতোটা ছিল তা মানচিত্র দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।</p>
<p>আসাম এবং মেঘালয়ে ঔপনিবেশিক প্রভাব বিস্তারে সিলেটের একটি বিশেষ ভূমিকা ছিল। সিলেট তখন ছিল বেশ আন্তর্জাতিব শহর, ইংরেজ নয় বরং আরমেনিয়া এবং অন্যান্য অনেক দেশের বণিকরা তখন এখানে ব্যবসা খুলে বসেছিল। আনাগোণা ছিল অনেকের, কারণ চৈনিক সিল্ক রোডে পৌঁছানোর জন্য এই শহর চিড়ে বয়ে গিয়েছিল আরেকটি সড়ক যাকে সেখানে সিল্ক রোড নামেই ডাকা হতো। ঔপনিবেশিত বাণিজ্যের রূপরেখা তার বইয়ে ফুটে উঠবে বলেই মনে হলে। বইটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হবে বললেন তিনি।</p>
<p><strong>&#8220;ওরা আমাদের জমি কেড়ে নিচ্ছে&#8221;<br />
- এলেন বল ও এফা গেয়াহারৎস</strong></p>
<p>এই আলোচনাটুকুই আমাকে সবচেয়ে বেশি আচ্ছন্ন করল। পরিচয় দেখেই বুঝলাম এলেন বাংলাদেশে অনেকদিন ছিলেন, এমনকি তিনি পিএইচডি গবেষণা করেছেন ময়মনসিংহে। এফা বাংলাদেশ নিয়ে নতুনভাবে গবেষণা শুরু করছেন ২০১০ সালে রাঙামাটিতে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনার পর। তাদের বক্তব্যের বিষয় ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী অঞ্চলে আদিবাসী-বাঙালি সম্পর্ক নিয়ে একটি নতুন গবেষণার সূত্রপাত। তারা দুজনেই গবেষণার প্রস্তাব তৈরি করছেন এই মুহূর্তে। তবে তাদের গবেষণা হবে তুলনামূলক যেহেতু নৃবিজ্ঞান আবশ্যিকভাবেই একটি তুলনামূলক বিজ্ঞান।</p>
<p>তুলনা হিসেবে তারা বেছে নিয়েছেন ভারতের মেঘালয় এবং বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামকে। এই দুটি অঞ্চলই ব্রিটিশ শাসনামলে পৃথক অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত ছিল যেখানে আদিবাসীদের জন্য ব্রিটিশ আইনে বিশেষ অধিকার দেয়া ছিল। ১৯৪৭ এর পর দুই অঞ্চলের অবস্থানই কিছুটা পরিবর্তিত হতে শুরু করে। ভারতের মেঘালয়ে যেমন সাধারণ ভারতীয়দের আনাগোণা শুরু হয় তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের আনাগোণা শুরু হয়। মেঘালয়ের অবস্থাও খুব ভাল নয়, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের তুলনায় অনেক ভাল। কারণ সেখানে মেঘালয়কে একটি পৃথক অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছিল ৪৭-এর পরেও। কিন্তু বাংলায় পাকিস্তান সরকার পৃথক আদিবাসী অঞ্চলের ধারণা লুপ্ত করে আদিবাসীধেরকে উপজাতি বা পাকিস্তানের মধ্যকার বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠী হিসেবে আখ্যা দিতে থাকে। সুতরাং পৃথক অঞ্চলের আদিবাসী হিসেবে তাদের অধিকাংশ অধিকারই লোপ পায়।</p>
<p>রাঙামাটিতে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণও তাদের বক্তব্যে উঠে আসে। তারপর চলে এভাবে- ১৯৭১ এ স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনের পর আদিবাসীদের অবস্থা আরও খারাপ হয়। স্বাধীন দেশ হয় শুধু বাঙালিদের দেশ। এই দেশটির ভেতরে এতো-শত বৈচিত্র থাকলেও দেশের সংবিধান বা বাইরে থেকে দেখলে বোঝার কোন উপায় নেই। বাইরে থেকে মনে হয় এ বুঝি কেবলই বাঙালিতে বাঙালিময়। যাহোক এরপরে আবার শুরু হয় নতুন যন্ত্রণা- নতুন সরকারগুলো পরিকল্পিতভাবে সমতলের বাঙালিদেরকে ব্যাপক হারে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানান্তরিত করে। শুরু হয় সেটলার-পাহাড়ী সংঘর্ষের যুগ। পার্বত্য অঞ্চলে যুদ্ধ চলে অনেকদিন ধরে যার প্রহসনমূলক সমাপ্তি ঘটানো হয় ১৯৯৭ সালে একটি ছদ্ম শান্তি চুক্তির মাধ্যমে। এই চুক্তির শর্তগুলো আজও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।</p>
<p>আলোচনায় উঠে আসে ২০১০ সালে রাঙামাটিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা। আসলে এলেন এবং এফা তাদের গবেষণা শুরুর তাড়া অনুভব করছেন এই অগ্নিকাণ্ডের পরই। এতোদিন কেবল বাংলাদেশে আদিবাসীদের নিয়ে কথা হয়েছে, কিন্তু তিনি তাদের গবেষণায় সেটলারদের প্রেক্ষাপটও তুলে আনতে চাইছেন। তারা বাংলাদেশ থেকে দুই জন পিএইচডি শিক্ষার্থী নিয়োগ করবেন। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার নাকি এখন পার্বত্য এলাকার গহীনে বিদেশীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলেই যদি আদিবাসীদের অবস্থা এত খারাপ হয় তাহলে ভবিষ্যতে কখনো বিএনপি (যাকে জামাতের শাখা নামে ব্যঙ্গ করারও চল শুরু হয়েছে) ক্ষমতায় এলে অবস্থা কি হবে তা ভাবলেই গা শিউরে উঠে। তবে বলা যায় না, হয়তো আদিবাসী প্রশ্নে সবাই এক রকম।</p>
<p>কর্মশালায় বাংলাদেশে আদিবাসীদের প্রতি মনোভাবের সমালোচনা যেমন হল তেমনি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের নিয়ে অনেক হাসাহাসিও হল। যেমন পররাষ্ট্র মন্ত্রী দিপু মণি নাকি সম্প্রতি জাতিসংঘের এক সভায় বলেছেন বাংলাদেশে কোন আদিবাসী নেই। সেই পুরাতন ধারণা, যে বাঙালিরাই বাংলাদেশের আদিবাসী এবং প্রকৃত আদিবাসীরা বার্মা এবং অন্যান্য জায়গা থেকে আগত- সেই ধারণাকেই আবার উস্কে দিতে চাইছে লীগ। এর পেছনে অবশ্য রাজনৈতিক কারণও বোঝা যায়। হয়তো যে কোন উপায়ে সামরিক বাহিনীকে হাতে রাখতেই লীগ মরিয়া হয়ে আদিবাসী অধিকার হননের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আদিবাসীদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া না হলে জাতিসংঘের বেশ কিছু আদিবাসী সংক্রান্ত চুক্তিপত্রে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর করতে হবে না যা নাকি সেনাবাহিনীর জন্য ভাল। কারণ বাংলাদেশে সেনাবাহিনী আদিবাসীদের উপর নির্যাতন করছে এই খবর বিদেশে আরও প্রচারিত হলে হয়ত শান্তি মিশনের নামে সেনাবাহিনীর মহাবাণিজ্য মহা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।</p>
<p>প্রথমে আদিবাসীদেরকে বাঙালিরা ডাকা শুরু করে উপজাতি। এমনকি বাংলাপিডিয়াতেও উপজাতি সম্বোধন রয়েছে, আছে আদিবাসী সম্প্রদায়গুলো নিয়ে পক্ষপাতমূলক সব তথ্য। এখন নাকি আবার সব মূলধারার পত্রিকায় আদিবাসী শব্দটি এড়ানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে &#8220;ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী&#8221;। এলেনরা তাদের বক্তৃতার সময় tiny minority, small community, tiny tribe বা এমন কিছু বোঝাতে চাইছিলেন কিন্তু বাংলাটা বলতে পারছিলেন না, আমি ধরিয়ে দিলাম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী শব্দদ্বয়, সেই সুযোগে এলেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা গেল, বক্তৃতা শেষে বিস্তারিত কথা হল তার সাথে।</p>
<p>এলেনের সাথে যতোই কথা বলতে লাগলাম বিস্ময়ের সীমা ততোই সম্প্রসারিত হতে থাকল। প্রথমে যখন শুনল যে আমি ময়মনসিংহের তখন তার প্রশ্ন ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজের কোন দিকে আমার বাড়ি। আমি তো হতবাক, পরে শুনলাম এলেন তার পিএইচডি করেছেন ময়মনসিংহের গারোদের নিয়ে। অনেকদিন ছিলেন সেখানে। বাংলা কিছুটা বলতে পারেন, কিছুদিন কিছুদিন পরপরই বাংলাদেশে যান। আসছে ফেব্রুয়ারিতেও যাবেন একবার। ঘরে ফিরে প্রথম কাজ ছিল তার প্রোফাইল ঘাটা। <a href="http://www.fsw.vu.nl/en/departments/social-and-cultural-anthropology/staff/bal/index.asp">ইউনিভার্সিটি অফ আমস্টারডামের ওয়েবসাইটে</a> পেলাম। সবচেয়ে আকর্ষণীয় লাগল তার পিএইচডি গবেষণা দিয়ে প্রকাশিত বইটির নাম: <a href="books.google.de/books?id=JahG6Is2VboC&amp;printsec=frontcover">They Ask If We Eat Frogs: Garo Ethnicity in Bangladesh</a>. বাংলাদেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতি সাধারণের যে মনোভাব তা এই একটি বাক্যেই কিন্তু খুব সুন্দরভাবে প্রকাশ পেয়ে যায়।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/760/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/760/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/760/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/760/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/760/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/760/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/760/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/760/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/760/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/760/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/760/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/760/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/760/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/760/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=760&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/01/performing-identity/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>8</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/undrimahachari.png" medium="image">
			<media:title type="html">undrimahachari</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/mro-headman-and-wife.png" medium="image">
			<media:title type="html">mro headman and wife</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://bigganpuri.files.wordpress.com/2011/12/rangamati.png" medium="image">
			<media:title type="html">rangamati</media:title>
		</media:content>
	</item>
		<item>
		<title>বিবর্তনের ভূমিকা</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/01/introduction-to-evolution/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/01/introduction-to-evolution/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 01 Jan 2012 19:25:23 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[বিবর্তন]]></category>
		<category><![CDATA[কুরআন]]></category>
		<category><![CDATA[চার্লস ডারউইন]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=935</guid>
		<description><![CDATA[বিবর্তন বিশ্বকোষ এর উদ্বোধন উপলক্ষে আমাদের চেয়ে উন্নত কোন বহির্জাগতিক সভ্যতা যদি আমাদের দেখা পায় তাহলে হয়ত তাদের প্রথম প্রশ্নই হবে, তোমরা কি নিজেদের উদ্ভবের ইতিহাস আবিষ্কার করতে পেরেছ? প্রকৃতিবিদ চার্লস ডারউইনকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাদেরকে সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/01/introduction-to-evolution/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=935&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p><a href="http://biborton.wikispaces.com/">বিবর্তন বিশ্বকোষ এর উদ্বোধন উপলক্ষে</a></p>
<p><img width="630" src="http://biborton.wikispaces.com/file/view/Hominins_tiny.jpg/" alt="" /></p>
<p>আমাদের চেয়ে উন্নত কোন বহির্জাগতিক সভ্যতা যদি আমাদের দেখা পায় তাহলে হয়ত তাদের প্রথম প্রশ্নই হবে, তোমরা কি নিজেদের উদ্ভবের ইতিহাস আবিষ্কার করতে পেরেছ? প্রকৃতিবিদ চার্লস ডারউইনকে ধন্যবাদ যে তিনি আমাদেরকে সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে না পারার লজ্জা থেকে বাঁচিয়েছেন। সেই গ্রিক যুগ থেকেই বিবর্তনের বিভিন্ন বিষয়ে টুকরো টুকরো কথা চলে আসছিল। কিন্তু ডারউইনই প্রথম প্রকৃতির গভীর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রমাণসহ বিবর্তনের বাস্তবতাটি জনসমক্ষে তুলে ধরেন তার ঐতিহাসিক গ্রন্থ অন দি অরিজিন অফ স্পিসিস এর মাধ্যমে। পাঁচ বছরে বিগল জাহাজে করে সমগ্র পৃথিবী প্রদক্ষিণই তাকে এত সব প্রমাণ সংগ্রহের সুবর্ণ সুযোগ করে দিয়েছিল। তিনি কেবল বিবর্তনের বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েই ক্ষান্ত হননি, সেই বাস্তবতার কারণ ব্যাখ্যার জন্য প্রাকৃতিক নির্বাচন নামে একটি প্রভাবশালী অনুকল্পও প্রস্তাব করেন। সেই অনুকল্প এ যাবৎ সকল পরীক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণে নির্ভুল প্রমাণিত হওয়ায় প্রাকৃতিক নির্বাচন বিবর্তনকে ব্যাখ্যার একটি প্রভাবশালী তত্ত্বে পরিণত হয়েছে। তবে ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন ছাড়া বিবর্তনের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যার জন্য আরও কিছু তত্ত্বের উদ্ভব ঘটেছে।</p>
<p>বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ডিএনএ এবং তার সূত্র ধরে জিন আবিষ্কারের পর বিবর্তনের প্রক্রিয়াটি বিজ্ঞানীরা আরও ভাল বুঝতে পেরেছেন। পদার্থবিজ্ঞানের এখনও কোন একীভূত তত্ত্ব নেই, অর্থাৎ একটিমাত্র তত্ত্ব দিয়ে পদার্থবিজ্ঞানের সকল কিছু ব্যাখ্যা করা যায় না। কিন্তু জীববিজ্ঞানের আছে, আর তা হল বিবর্তন। বিবর্তন ছাড়া বর্তমানে জীববিজ্ঞানের কোনকিছুরই কোন অর্থ হয় না। পৃথিবী ও সূর্য তাদের সাধারণ ভারকেন্দ্রকে আবর্তন করে- এ যেমন ধ্রুব সত্য, বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষসহ পৃথিবীর সকল প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে- এও তেমনি ধ্রুব সত্য। গ্রহ-তারার ঘূর্ণনকে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে নিউটন-আইনস্টাইনের মহাকর্ষ যতোটা সফল, বিবর্তন ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক নির্বাচন এবং অন্যান্য আরও কিছু তত্ত্ব ঠিক ততোটাই সফল। বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিবর্তন নিয়ে কোন দ্বিমত নেই আর, কিন্তু বিবর্তন কিভাবে হয়েছে তার খুটিনাটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক আছে, যেমনটা আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার খুটিনাটি বিষয় নিয়েও আছে। বিতর্ক এবং নতুন নতুন গবেষণার মাধ্যমেই বিজ্ঞান এগিয়ে চলে, ধর্মের মত প্রাচীন কুসংস্কার আঁকড়ে ধরে নয়।</p>
<p>বিজ্ঞানের অন্যান্য তত্ত্বের সাথে বিবর্তনের একটি বড় পার্থক্য হচ্ছে, বিবর্তন পৃথিবীর সিংহভাগ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে সরাসরি আঘাত হানে। ইসলাম, খ্রিস্টান আ ইহুদি ধর্মের বর্ণনা মতে, মাত্র দুজন স্বর্গচ্যুত নর-নারী থেকে সকল মানুষের জন্ম হয়েছে। এই কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট। বিবর্তনের পথ ধরে প্রাচীন প্রাইমেট প্রজাতি থেকে মানুষের উদ্ভব ঘটেছে। আমাদের সবচেয়ে নিকটাত্মীয় শিম্পাঞ্জি এবং তারপরে গরিলা। শিম্পাঞ্জি, গরিলা, মানুষ এরা সবাই একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছে। পৌরাণিক গালগল্প ভেবে হয়ত আমরা আদম-হাওয়ার কাহিনী প্রচারকদের কিছুটা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে পারি। কিন্তু আজকের যুগেও যারা সেই কথা অর্থে বিশ্বাস করে তাদের অন্ধত্বের কূল-কিনারা কোথায় তাই ভেবে হই দিশাহারা। ক্যালটেকের বিশ্বতত্ত্ববিদ শন্য ক্যারল বলেছিলেন, আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান এবং ধর্ম এই দুটোকে একসাথে বিশ্বাস করা অসম্ভব। বিবর্তনের কারণে এই চেতনা আরও শত বছর আগেই ইউরোপে জয়যুক্ত হয়েছিল। ডারউইনের বই প্রকাশের পর জার্মান দার্শনিক নিৎশে বলেছিলেন, ঈশ্বরের মৃত্যু ঘটেছে, মানুষের তৈরি ঈশ্বরকে মানুষ নিজেই হত্যা করেছে। এবার তবে ঈশ্বরবিহীন পৃথিবীতে বসবাসের জন্য আমাদের নতুন জীবন দর্শন ছড়িয়ে দিতে হবে। সেই জীবন দর্শনের ভিত্তি হবে যুক্তি, প্রাকৃতিক দর্শন এবং বিজ্ঞান। যারা একইসাথে কুরআন, বাইবেল, তোরাহ বা বেদ এর বাক্যে বিশ্বাস করে এবং বিজ্ঞানের উপর আস্থা রাখতে চায় তাদের মত অসৎ ব্যক্তি আর নেই।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/935/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/935/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/935/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/935/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/935/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/935/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/935/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/935/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/935/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/935/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/935/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/935/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/935/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/935/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=935&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/01/introduction-to-evolution/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>2</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>

		<media:content url="http://biborton.wikispaces.com/file/view/Hominins_tiny.jpg/" medium="image" />
	</item>
		<item>
		<title>রবার্ট লোভি</title>
		<link>http://subarnarekha.com/2012/01/01/robert-lowie/</link>
		<comments>http://subarnarekha.com/2012/01/01/robert-lowie/#comments</comments>
		<pubDate>Sun, 01 Jan 2012 19:14:32 +0000</pubDate>
		<dc:creator>Khan Muhammad</dc:creator>
				<category><![CDATA[নৃবিজ্ঞান]]></category>
		<category><![CDATA[রবার্ট লোভি]]></category>

		<guid isPermaLink="false">http://subarnarekha.com/?p=932</guid>
		<description><![CDATA[কলেজ লাইব্রেরিতে প্রথম Magic, Witchcraft and Religion নামে একটা বই হাতে পেয়েছিলাম। বইটার প্রতি দেখতাম অনেকেরই আগ্রহ ছিল কারণ তারা ভাবতো এখানে হয়তো ব্ল্যাক ম্যাজিক, ভুডু ইত্যাদি অতিলৌকিক সব ব্যাপার নিয়ে মজার মজার কথা আছে। ক্লাস টেনে বইটা যখন প্রথম &#8230; <a href="http://subarnarekha.com/2012/01/01/robert-lowie/">Continue reading <span class="meta-nav">&#8594;</span></a><img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=932&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></description>
			<content:encoded><![CDATA[<p>কলেজ লাইব্রেরিতে প্রথম Magic, Witchcraft and Religion নামে একটা বই হাতে পেয়েছিলাম। বইটার প্রতি দেখতাম অনেকেরই আগ্রহ ছিল কারণ তারা ভাবতো এখানে হয়তো ব্ল্যাক ম্যাজিক, ভুডু ইত্যাদি অতিলৌকিক সব ব্যাপার নিয়ে মজার মজার কথা আছে। ক্লাস টেনে বইটা যখন প্রথম দেখি তখন নৃবিজ্ঞান কি জিনিস তা জানতামও না। পরে অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের মারফতে জানতে পারি, &#8220;আমি পান খাই আর তুমি খাও না&#8221;, এটাই নৃবিজ্ঞান। পরে দেখলাম বইটা আসলে নৃবিজ্ঞানের- বিভিন্ন গোষ্ঠীতে ধর্মাচরণের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন নৃবিজ্ঞানীর গবেষণা প্রবন্ধের সংকলন। সেই বইয়েই রবার্ট লোভির একটা প্রবন্ধ ছিল যার মাধ্যমে তাকে চেনা। ভদ্রলোক ধর্ম নিয়ে একটু বেশি আবেগী ছিলেন। নিজে ধার্মিক ছিলেন কিনা জানি না কিন্তু তিনি বলেছিলেন আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোকে বুঝতে হলে সবার আগে বুঝতে হবে তাদের বিশ্বাস এবং আচারানুষ্ঠান। সত্যিই তাই এখনও পৃথিবীর মানুষ নিজেদেরকে কোন ধর্ম দ্বারা সংজ্ঞায়িত করে, অন্তত মুসলিমদের ক্ষেত্রে এটা গভীরভাবে সত্য। কবে এর পরিবর্তন ঘটবে জানি না, তবে ঘটবে এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। ততোদিন লোভির কিছু লেখা পড়ে ধর্মের স্বরূপ চেষ্টা করতে তো অসুবিধা নেই।<br />
[উল্লেখ্য নিবন্ধটি প্রথমে <a href="http://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F_%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%AD%E0%A6%BF">বাংলা উইকিপিডিয়ার জন্য</a> লিখেছিলাম।]<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
রবার্ট হ্যারি লোভি (১৮৮৩ &#8211; ১৯৫৭) অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নৃবিজ্ঞানী। পেশাগত জীবনে সম্পূর্ণ সফল এই বিজ্ঞানী যে গবেষণা করেছেন তা বর্তমানে নৃবিজ্ঞান চর্চায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে। লোভির মাঠ পর্যায়ের গবেষণার মূল ক্ষেত্র ছিল অ্যারিজোনার হোপি এবং মন্টানার ক্রো জনগোষ্ঠী।<span id="more-932"></span></p>
<p>রবার্ট এইচ লোভি অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বংশধারা ছিল হাঙ্গেরীয়। জীবনের প্রথম ১০ বছর অস্ট্রিয়াতে কাটানোর পর ১৮৯৩ সালে তাদের পরিবার অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে চলে আসে। এই শহরের একটি প্রথাগত জার্মান পকেট এলাকায়ই তারা বস্তি স্থাপন করেছিলেন। এই এলাকায় লোভির বাল্যকালের অভিজ্ঞতার মত অনেক কিছুই জীবন্ত ছিল। এ বিষয়ে তিনি একবার বলেছিলেন, &#8220;American Melting Pot was not doing much melting in his neighborhood&#8221; (মার্ফি, পৃ-৮)। এ কারণে লোভি যে পরিবেশে বড় হয়েছেন সেখানে সাধারণ জার্মান জীবনধারাই অনুসৃত হতো। সেখানে জার্মান ইহুদি চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটলেও অনেকেই মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী ছিলেন।</p>
<p>পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর লোভি সিটি কলেজ অফ নিউ ইয়র্কে ভর্তি হন। এই কলেজে বেশ ভাল ফলাফল করেন এবং ১৯০১ সালে এখান থেকেই ব্যাচেলর্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শিক্ষক ছিলেন ফ্রান্‌ৎস বোয়াস আর সহপাঠীদের মধ্যে ছিলেন তার ভবিষ্যৎ সহকর্মী আলফ্রেড ক্রোয়েবার ও আলবার্ট লুইস। এখানে পড়ার সময়ই লোভি নৃবিজ্ঞানের প্রতি উৎসাহী হয়ে উঠেন ও এই বিষয়ে ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। তিনি বলেছিলেন, &#8220;কোন নৃবিজ্ঞানী এমনকি স্বয়ং বোয়াসও নৃবিজ্ঞানী হওয়ার পেছনে আমার নায়ক বা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেনি&#8221;।</p>
<p>তারপরও বলা যায় শিক্ষাজীবনে ক্লার্ক উইসলারের দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছিলেন। উইসলার কলাম্বিয়ার অধ্যাপক ও অ্যামেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্টরির চেয়ারম্যান ছিলেন। লোভিকে প্রথম মাঠ পর্যায়ে গবেষণার জন্য Shoeshoni গোষ্ঠীর কাছে পাঠিয়েছিলেন এই উইসলার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সমভূমিতে ইন্ডিয়ানদের নিয়ে অধ্যয়ন করার জন্যও উইসলারই পাঠিয়েছিলেন। উল্লেখ্য ইন্ডিয়ানদের নিয়ে অধ্যয়ন করেই লোভি তার মাঠ পর্যায়ে গবেষণার ক্যারিয়ার গড়ে তুলেন। তার এই ক্যারিয়ার ছিল উচ্চমাত্রায় বর্ণনামূলক গবেষণামুখী; ব্যাখ্যামুখীনতা ও অধিবিদ্যাকে সবসময়ই এড়িয়ে গেছেন। লোভির সেরা গবেষণাকর্ম অর্থাৎ ক্রো ইন্ডিয়ানদের নিয়ে মাঠ পর্যায়ের অধ্যয়নও কিন্তু এই উইসলারের অধীনে সম্পন্ন হয়েছিল। ১৯১০ থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি মৌসুমে লোভি এই ক্রো জনগোষ্ঠীকে খুব কাছ থেকে অধ্যয়ন করেছিলেন।</p>
<p>১৯০৮ সালে লোভি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং তখন থেকেই উইসলারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের শুরু হয়। ১৯২১ সালে তাকে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির অনুষদ সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এর ফলে তার মাঠ পর্যায়ের গবেষণা বন্ধ হয়ে যায়। ক্রোয়েবারের সাথে মিলে দীর্ঘ ২০ বছরে ইউসি, বার্কলির নৃবিজ্ঞান বিভাগকে তিলে তিলে গড়ে তোলেন। অনেককে বলতে শোনা যায়, লোভি ছিলেন তুখোড় বক্তা, কিন্তু তার ক্লাসগুলোতে এতো বেশি তথ্য ও বিশ্লেষণ থাকতো যে অনেকের পক্ষে লাগাম ধরে রাখা সম্ভব হতো না।</p>
<p>১৯৩৩ সালে লোভি লুয়েলা কোল-কে বিয়ে করেন। বিয়ের পর তার কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি পেশাদার হয়ে উঠেন। ১৯৫০ সালে অবসর গ্রহণ করার পর লোভি সস্ত্রীক জার্মানিতে যান। সেখানে যুদ্ধ পরবর্তী মানুষের অবস্থা অধ্যয়ন করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে নতুন ধরণের একটি নৃবিজ্ঞানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি ও তার স্ত্রী একসাথে জার্মানির মানুষদের অধ্যয়ন করেন। অবাক হয়ে লক্ষ্য করেন তারা যে জার্মানিকে চিনতেন আজকের এই জার্মানির সাথে তার অনেক পার্থক্য। অবসরের পরও লোভি অনেক সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৫৭ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর বার্কলিতে তার শেষ সেমিনার শেষ করার পরপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন লোভি। মৃত্যুর ঠিক আগে স্ত্রীকে ফাউস্ট থেকে একটি পংক্তি পড়ে শোনাচ্ছিলেন তিনি।</p>
<p>উইসলারের কাছ থেকে পাওয়া গবেষণাগুলো থেকেই লোভি &#8220;উদ্ধার নরবিজ্ঞান&#8221; (salvage ethnography) নামে নতুন ধরণের এক নরবিজ্ঞানের প্রচলন করেন। একটি সংস্কৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঠিক আগে যে নিদর্শনগুলো রেখে যায় তার মধ্যে বেশ কিছু পরবর্তীতে অন্য কেউ উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। এই উদ্ধারকৃত নিদর্শনগুলো থেকে সেই সংস্কৃতি সম্বন্ধে ধারণা লাভের যে বিজ্ঞান তাকেই উদ্ধার নরবিজ্ঞান বলা হয়। এই বিষয় নিয়ে তখন মূলত ব্যবহারিক অধ্যয়ন করতে হতো। কারণ আমেরিকার ইন্ডিয়ান গোষ্ঠীগুলো বেশ দ্রুত তাদের পুরনো সংস্কৃতি ঝেড়ে ফেলছিল। লোভি তার নরবিজ্ঞান গবেষণার জন্য একেবারে সরাসরি সাক্ষাৎকারের উপর নির্ভর করতেন। যত বেশি সম্ভব বিবরণী সংগ্রহ করতেন। এটাই ছিল তার গবেষণার পদ্ধতি।</p>
<p>লোভির আগ্রহের মূল বিষয় ছিল সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান। অবশ্য তার নিজস্ব নরবিজ্ঞানের মধ্যে থেকে মাঝেমাঝে প্রত্নতত্ত্ব নিয়েও কাজ করতেন। সবে সবসময়ই তার চিন্তার মূল বিষয় ছিল নিজস্ব ধারার নরবিজ্ঞান। এরপরই সবচেয়ে বেশি গবেষণা করেছেন যে বিষয় নিয়ে তা হল, আদিম ধর্ম এবং আদিম সমাজ। এই গবেষণাই তাকে সাংস্কৃতিক বিবর্তনবাদ বিরোধী বিজ্ঞানী সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। এছাড়া তিনি সাংস্কৃতিক ব্যাপনবাদেরও বিপক্ষে ছিলেন। এই মতবাদে বলা হয় এক সমাজ অন্য সমাজ থেকে অনেক কিছু ধার করে এবং সেই সমাজকে অনেক কিছু দেয়। তাই সমাজ নিয়ে গবেষণাও এভাবেই করা উচিত। কিন্তু লোভি এক্ষেত্রে এক ধরণের নির্দিষ্টকরণের ধারণা নিয়ে আসেন যা তার সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞানে স্পষ্টভাবেই ফুটে উঠেছে।</p>
<p>ধর্মের নৃবিজ্ঞান নিয়ে বিশেষ উৎসাহী ছিলেন লোভি। ধর্মীয় প্রথা অনুশীলনের ব্যাপ্তী দেখে লোভি সহ সমসাময়িক অনেক নৃবিজ্ঞানীই বুঝতে পেরেছিলেন এই বিষয়ে পরিপূর্ণ নৃতাত্ত্বিক গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, কোন গোষ্ঠীকে বুঝতে হলে নৃবিজ্ঞানীকে অবশ্যই তাদের বিশ্বাস প্রথা বুঝতে হবে। সমাজে কোন ব্যক্তির আচরণ ও অবদান কিভাবে বিশ্বাস ও ধর্মের প্রতি তার একাগ্রতা দ্বারা প্রভাবিত হয় তাও বুঝতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া ধর্ম ও বিজ্ঞানের সম্পর্ক নিয়েও তিনি আলোচনা করেছেন। তার মতে, বিজ্ঞান কখনও মানুষকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশান্তি দিতে পারে না। এই ক্ষেত্রে ধর্ম বিজ্ঞানকে ছাড়িয়ে যায়। তিনি বিজ্ঞান ও ধর্মের পৃথক পৃথক অবস্থানের ধারণায় বিশ্বাস করতেন। উল্লেখ্য স্টিফেন জে গুল্ডের &#8220;স্বতন্ত্র বলয়&#8221; ধারণাটিও অনেকটা এমন।</p>
<p>ধর্ম সম্পর্কে লোভি ও সমসাময়িক কয়েকজন নৃবিজ্ঞানীর আরেকটি ধারণা বেশ প্রভাব বিস্তার করেছিল। তারা ধারণা করেছিলেন, ধর্ম এবং পুরাণ মানুষের স্বপ্নে উৎপন্ন হতে পারে। সে হিসেবে এই উৎপত্তির সাথে জৈব প্রক্রিয়ার সম্পর্ক আছে যা জীববিজ্ঞানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।</p>
<p>&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8211;<br />
গুল্ডের স্বতন্ত্র বলয় এবং লোভির ধর্মের উপর অতিরিক্ত প্রভাব আরোপের ব্যাপারটা এ যুগে আর অতোটা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। হাজার হোক একবিংশ শতাব্দীকে অনেবে নব-নাস্তিকতার উন্মেষের যুগ বলছেন, যে যুগে মানুষ ধর্মকে কেবল সহ্য করে যাওয়া নয় বরং ধর্মীয় কুসংস্কারকে সংঘবদ্ধভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করতে শুরু করেছেন। ধর্মকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং ধর্ম প্রচারকদের ব্যঙ্গ করার স্বাধীনতা যেদিন প্রতিষ্ঠিত হবে সেদিন পৃথিবীবাসীর বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে বোধহয়।</p>
<p>তবে নৃবিজ্ঞানের আলোকে ধর্মের বিশ্লেষণ অনেকটাই আলাদা। মানুষ যা পালন করে তা নিয়ে গবেষণা করাই নৃবিজ্ঞানের কাজ, কারও কার্যকলাপকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়।</p>
<br />  <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gocomments/bigganpuri.wordpress.com/932/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/comments/bigganpuri.wordpress.com/932/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godelicious/bigganpuri.wordpress.com/932/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/delicious/bigganpuri.wordpress.com/932/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gofacebook/bigganpuri.wordpress.com/932/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/facebook/bigganpuri.wordpress.com/932/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gotwitter/bigganpuri.wordpress.com/932/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/twitter/bigganpuri.wordpress.com/932/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/gostumble/bigganpuri.wordpress.com/932/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/stumble/bigganpuri.wordpress.com/932/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/godigg/bigganpuri.wordpress.com/932/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/digg/bigganpuri.wordpress.com/932/" /></a> <a rel="nofollow" href="http://feeds.wordpress.com/1.0/goreddit/bigganpuri.wordpress.com/932/"><img alt="" border="0" src="http://feeds.wordpress.com/1.0/reddit/bigganpuri.wordpress.com/932/" /></a> <img alt="" border="0" src="http://stats.wordpress.com/b.gif?host=subarnarekha.com&amp;blog=2921791&amp;post=932&amp;subd=bigganpuri&amp;ref=&amp;feed=1" width="1" height="1" />]]></content:encoded>
			<wfw:commentRss>http://subarnarekha.com/2012/01/01/robert-lowie/feed/</wfw:commentRss>
		<slash:comments>0</slash:comments>
	
		<media:content url="http://0.gravatar.com/avatar/8eb94a71e161ca6ad898c1cba5d0dd53?s=96&#38;d=identicon&#38;r=G" medium="image">
			<media:title type="html">শিক্ষানবিস</media:title>
		</media:content>
	</item>
	</channel>
</rss>
